“১৫টা বছর কাউকে বুঝতে দিইনি আমার সঙ্গে কী হয়েছে…”- চিরসখার সোহিনী বাস্তবের স্বর্ণকমল! পর্দায় ফুটে উঠছে অভিনেত্রীর বাস্তব জীবন!

একসময় টলিউডে যেমন পরপর সিনেমার মুখ হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী ‘স্বর্ণকমল দত্ত’ (Swarnakamal Dutta), তেমনই বর্তমানে টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর উপস্থিতি যথেষ্ট শক্তিশালী। একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু রঙিন পর্দার আলো-ঝলমলে জগতের আড়ালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ছিল দীর্ঘ অন্ধকার। এক সময়ের সেই হাসিখুশি অভিনেত্রী আজ নিজের জীবনের নৃশংস অধ্যায়গুলি সকলের সামনে তুলে ধরেছেন সাহসের সঙ্গে। ১৫ বছরের দাম্পত্য, যার শুরু হয়েছিল মাত্র দেড় মাসের আলাপ থেকে, এখন প্রায় ভেঙে পড়া এক সম্পর্কের করুণ দলিল।
স্বর্ণকমলের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর জীবনে একের পর এক অত্যাচার নেমে আসে। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অকথ্য গালিগালাজ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করেই কেটে গেছে বছরের পর বছর। অভিনেত্রীর দাবি, স্বামী সুদীপ্ত ঘটক শুধুমাত্র মহিলাদের প্রতি দুর্বল ছিলেন না, বরং পরকীয়ায় জড়িয়েও পড়েন বারবার। এমনকি নিজের সহকর্মীর সঙ্গেও সম্পর্কে লিপ্ত হন তিনি। অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তার স্বামী, যে তিনি সন্তান নিতে চাননি অথচ অভিনেত্রী জানান তাকেই স্বামী গর্ভপাত করাতে বলেছিলেন, যদিও তিনি করাননি।
মেয়ের জন্মের পাঁচ মাসের মধ্যেই একবার তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানান স্বর্ণকমল। সেই সময় ফ্ল্যাটের কেয়ারটেকাররা তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। অভিনেত্রী জানান, সংসারটা টিকিয়ে রাখার জন্য বহু চেষ্টা করেছিলেন তিনি, এমনকি স্বামীর পেছনে ১ কোটি টাকার মতো খরচ করেছিলেন তাঁর বাবা। কিন্তু তার পরেও বিবাদ, হেনস্থা, গায়ে হাত তোলা চলতেই থাকে। আশপাশের প্রতিবেশীরাও তাঁর কান্না ও চিৎকারের সাক্ষী থাকতেন প্রায়শই। এই সম্পর্কের টানাপোড়েন শুধু স্বর্ণকমলের উপর নয়, প্রভাব ফেলেছে তাঁদের মেয়ের মনেও।
ছোট থেকেই মায়ের উপর নেমে আসা অত্যাচার দেখে বড় হয়েছে সে। একসময় পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছয় যে মেয়েই মাকে সাফ জানিয়ে দেয়, “এই লোকটা যদি আর একবার বাড়িতে আসে, আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।” স্বর্ণকমল জানান, তার মেয়েকেও মানসিকভাবে হয়রান করা হয় ফোনে, বলা হয় মাকে নাকি বাবার থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। অথচ এই পুরো সময়টাই তিনি সংসারটা বাঁচাতে লড়েছেন। নিজের কষ্ট ঢেকে রেখেছেন পর্দার আলোর আড়ালে। বাবার সাহায্যে স্বামীকে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বানিয়ে দেওয়ার পরেও তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার ন্যূনতম চেষ্টা করেননি ওই ব্যক্তি।
বরং সেখানের মহিলা এমপ্লয়ীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বরাবর সেই টাকা-পয়সার অবলম্বনে চলেছেন, আর প্রতিদানে ফিরিয়েছেন অবহেলা, অবমাননা আর অসহ্য যন্ত্রণা। এতসব অন্ধকারের মধ্যেও স্বর্ণকমল চেষ্টা করছেন নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার। বর্তমানে তিনি অভিনয় করছেন স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরসখা’-তে। এই ধারাবাহিকে তাঁর চরিত্র সোহিনীও এক প্রতারিত নারী—কমলিনীর সতীন, যার জীবনেও রয়েছে সন্তান, রয়েছে বিশ্বাসঘাতকতা, রয়েছে টাকার লোভে ঘর বাঁধা এক পুরুষ।
আরও পড়ুনঃ মাকে অবলম্বন করেই বাঘের গুহায় পা রাখলো দুর্গা! জগদ্ধাত্রীর কাণ্ড দেখে ভয় পেয়ে গেল মেহেন্দি!
বাস্তব জীবনের ঘটনার সঙ্গে ধারাবাহিকের গল্প যেন মিলে গিয়েছে অদ্ভুতভাবে। সোহিনীর স্বামী যেমন শ্বশুরের অর্থে ব্যবসা করে, ঠিক তেমনই স্বর্ণকমলের প্রাক্তন স্বামীকেও দোকান বানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। একই রকমভাবে ধারাবাহিকে চন্দ্রও প্রথম স্ত্রীর সংসার, সন্তান রেখেও সোহিনীর বাবার অর্থলোভে দ্বিতীয় বিয়ে করে। ধারাবাহিকের পর্দায় যেটা আজ নাটক, সেটা অনেক আগেই স্বর্ণকমলের জীবনে রক্তমাংসের বাস্তবতা হয়ে নেমে এসেছিল। যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যাওয়া এক সাহসী অভিনেত্রী এখন ধীরে ধীরে নিজের নতুন জীবন গড়ে তুলছেন।

