‘মা হওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করেও মা হতে পারিনি…’- চোখের সামনে দেখেছেন সন্তানের মৃ’ত্যু! আবেগপ্রবণ সুস্মিতা রায়!

টেলিভিশনের পর্দার (Bengali Television) এপাশে বসে আমরা যারা ধারাবাহিক (Bengali Serial), সিনেমা দেখে থাকি তারা কখনোই কল্পনা করতে পারি না পর্দার ওপারে যারা অভিনয় করছে তাদের জীবনে কত ঝড় বয়ে যায় মাঝেমধ্যে তাদের কত বাঁধা প্রতি ঝড় ঝাপটা পেরিয়ে আসতে হয় সেই ধারণা আমাদের অনেকেরই থাকে না। সেরকমই একজন জনপ্রিয় টেলিভিশনের অভিনেত্রী হলেন সুস্মিতা রায় (Sushmita roy)।
হ্যাঁ অভিনেত্রী সুস্মিতা যার কিছুদিন আগেই সাংবাদিক স্বামীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়েছে। তবে আজ থেকে কয়েক বছর আগে সুস্মিতার জীবনে আরও বড় ঝড় উঠেছিল। সন্তান হারিয়েছিলেন অভিনেত্রী। ২০১৯ সালে তাঁর সন্তানবিয়োগ ঘটে। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে, একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখেছিলেন অভিনেত্রী তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে। চিকিৎসকের গাফিলতির অভিযোগও ছিল। ডেলিভারির দু’দিন আগে চেকআপে দেখা যায় যে মা ও সন্তান দুজনেই সম্পূর্ণ সুস্থ। অদ্ভুতভাবে চিকিৎসক সব দেখেশুনেই হাসপাতালে অ্যাডমিশনের তারিখটি পিছিয়ে ২২ মার্চ করে দেন।
সুস্মিতা ভেবেছিলেন মেয়ে হলে নাম রাখবেন রাই। হাসপাতাল সূত্রে জানতে পারেন, তাঁর মেয়েই হয়েছিল। মৃত হলেও, সন্তানকে একবার চোখের দেখা দেখতে চেয়েছিলেন। তাঁকে দেখতে দেওয়া হয়নি। তারপরে সমস্ত শোক কাটিয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কৃষ্ণকলি ধারাবাহিকের সেটে ফিরেছিলেন অভিনেত্রী। সেই ধারাবাহিকে তার কোলে একটি ছোট্ট সন্তানও ছিল। ধারাবাহিকে তাকে সকলেই মনের জোর দিয়েছিলেন। অনেকেই ভেবেছিলেন অভিনেত্রী এই চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন না। কিন্তু অভিনেত্রী মনের জোর রেখে সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
সম্প্রতি সুস্মিতার জীবনে ঘটে গেছে আরো এক দুর্ঘটনা। স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হয়েছে অভিনেত্রীর। যদিও দুজনের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তারা। কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। সুস্মিতা এবং তাঁর স্বামী বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।
আরও পড়ুনঃ টলিউডকে বিদায় জানিয়ে কলকাতা ছাড়ছেন দেব! বাংলা ছবিতে আর দেখা যাবে না তাকে?
অভিনেত্রীর স্বামীর তরফ থেকে বার্তা আসে, উভয়ের সম্মতিতেই বিচ্ছিন্ন হচ্ছেন তাঁরা। এটাই সুস্মিতাকে জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর স্বামীর শেষ পোস্ট। একই সঙ্গে অনুরোধ জানান, তাঁর স্ত্রীকে বা তাঁর মন্তব্য বাক্সে যেন এর পরেই সকলে কটূক্তিতে ভরিয়ে না দেন। প্রসঙ্গত, আড়াই বছর আগেও তাঁরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সেই সময় সব ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে এক হয়েছিল তবে এবার আর শেষ রক্ষা হলো না।

