পর্দায় মেয়ের চোখে জল দেখলে কেঁদে ফেলতেন বাবাও! কেটে গিয়েছে তিনটে বছর, হারিয়ে গিয়েছেন ঐন্দ্রিলা! আজও শূন্য সন্তানহারা পিতার বুক!

আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে ২০শে নভেম্বর অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা (Aindrila Sharma) চিরকালের মত আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর মারণ রোগ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার স্বীকার করে নিতে হয়েছে তাকে। বেশ কয়েকবার মৃ’ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসলেও সেবার আর ফিরে আসা হলো না ঐন্দ্রিলার (Aindrila Sharma)। বহরমপুরের ঐন্দ্রিলা অভিনয় করার স্বপ্ন নিয়ে কলকাতা এসেছিলেন বছর কয়েক আগে। অভিনয় যাত্রা ভালই চলছিল। খুব অল্প বয়সেই ঐন্দ্রিলার শরীরে বাসা বেধেছিল মা’রণ রোগ ক্যা’ন্সার। বহুবার মৃ’ত্যুর মুখ থেকে কঠিন লড়াই করে ফিরে এসেছেন তিনি সেই সময় পাশে ছিলেন প্রেমিক সব্যসাচী সব সময় ঐন্দ্রিলা কে যত্নে আগলে রেখেছিলেন তিনি।
তবে ২০২২ সালে ঐন্দ্রিলার শরীর যেন বেশি খারাপ হয়ে গিয়েছিল। হাজার হাজার ভক্ত তার জন্য দিনরাত প্রার্থনা করেছিলেন। ফাইটার ঐন্দ্রিলার জন্য প্রত্যেকে ভগবানের কাছে মাথা নুইয়েছিলেন। তার ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন সকলে। সেই সময়ের পাশে শুধুমাত্র প্রেমিক, পরিবার, ভক্তরা তার পাশে ছিল। গোটা বাংলার মানুষ প্রত্যেকের প্রার্থনাই ব্যর্থ হয় অবশেষে। ঐন্দ্রিলা টলিউডে কাজ শুরু করেন জিয়ন কাঠি ধারাবাহিকের হাত ধরে। কাজ করতে গিয়ে আলাপ হয় প্রেমিক সব্যসাচীর সঙ্গে। জিয়ন কাঠি-তে কাজ করতে করতেই দ্বিতীয়বার ফিরে আসে ক্যা’ন্সার ২০১৯ সাল নাগাদ। সেবার ক্যা’ন্সার আক্রান্ত শরীর নিয়ে শ্যুটও করেন।

সুস্থ থাকা কালীন একবার দিদি নাম্বার ওয়ান এর মঞ্চে এসেছিলেন অভিনেত্রী। আমরা প্রত্যেকেই জানিয়ে দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে মাঝেমধ্যেই জনপ্রিয় সমস্ত সেলিব্রিটিরা এসে থাকেন। সেরকমই ঐন্দ্রিলা এসেছিলেন রচনা ব্যানার্জির শোতে। সেখানে এসেই জানিয়েছিলেন তার জীবনের নানান গল্প।

জানিয়েছিলেন কিভাবে অভিনেত্রীকে টিভিতে কাঁদতে দেখে নিজেই চোখের জল ফেলতেন ঐন্দ্রিলার বাবা। মেয়েকে ধারাবাহিকে কাঁদতে দেখে তিনি নিজেও চোখের জল ধরে রাখতে পারতেন না। তারও চোখ থেকে বেরিয়ে পড়ত জল। তারপরই ঐন্দ্রিলার কাছে আসতো ফোন, অভিনেত্রী ঠিক আছেন কিনা খোঁজ নিতেন।
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ফের টেলিভিশনের পর্দায় মনামী ঘোষ! প্রধান চ্যানেলে, প্রধান চরিত্রে দেখা মিলবে তার! কবে থেকে শুরু হচ্ছে শুটিং?
আজ সেই মেয়েই বাবাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে না ফেরার দেশে। দেখতে দেখতে তিনবছর হতে চললো। আজও সকলের মনের মধ্যে থেকে গেছেন অভিনেত্রী। অল্প সময়ের মধ্যেই সকলের মধ্যে জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন ঐন্দ্রিলা। পেয়েছিলেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। কিন্তু বাকি জীবনটা আর উপভোগ করা হলো না ঐন্দ্রিলার। অভিনেত্রী যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক।

