দাদুর সামনে হাতে হাত রেখে ভালোবাসার অঙ্গীকার! রায়ানের চোখে পারুলই হয়ে উঠল তার ফিনিক্স পাখি!

জি বাংলার (Zee Bangla) দর্শকদের প্রিয় ধারাবাহিক গুলির মধ্যে অন্যতম হলো ‘পরিণীতা’ (Parineeta)। ধারাবাহিকটি বেশ কয়েক মাস হয়েছে শুরু হয়েছে জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায়। ধারাবাহিকের গল্প ধীরে ধীরে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। প্রথমদিকে ততটা জনপ্রিয়তা না পেলেও বর্তমানে ধারাবাহিকের গল্প যে দিকে এগোচ্ছে তাতে করে দর্শক বেশ পছন্দ করছে ধারাবাহিকটি। ধারাবাহিকটিতে শুরু থেকেই পারুল ও রায়ানের জীবনের গল্প ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

ধারাবাহিকের গত কয়েক দিনের পর্বে দেখানো হয়েছে কাঁদান গ্যাসের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়ে সকলে। আর পারুল সেটা কিছুতেই মুখ বুজে সহ্য করে না। উল্টে সেটাই পারুল ঘুরিয়ে পুলিশের দিকে ছুঁড়ে মারে। পারুলের এই সাহস এবং মনের জোর দেখে সকলেই তো বাহবা দিতে থাকে। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হয় না পুলিশ। শুরু হয় জল কামান দিয়ে আক্রমণ। পারুলকে জল কামানের হাত থেকে বাঁচাতে রায়ান ঝাঁপিয়ে পড়ে। পারুল এবং রায়ানের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাতেও সঠিক বিচার পায় না। সারারাত অনশন করে সবাই মিলে চলো স্পর্শ পর্যন্ত করে না আন্দোলনকারীরা।

Parineeta, Zee Bangla, Bengali Serial, Bengali Television, Ishani Chatterjee, Uday Pratap Singh, Nostalgic Song, পরিণীতা, জি বাংলা, বাংলা সিরিয়াল, বাংলা টেলিভিশন, ঈশানি চ্যাটার্জী, উদয় প্রতাপ সিং, নস্টালজিক গান

রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে যায় ১৮ ঘণ্টা কেটে যায় কারোর পেটে পড়েনি খাবার। এদিকে সকলের খবরের কাগজে বড় বড় করে রায়ান পারুলের সেই জলকামান এর মুহূর্তের ছবি বেরিয়েছে। সবাই সেই নিয়ে উচ্ছ্বাস করতে থাকে। আর তখনই হঠাৎ রায়ান পারুলদের এক বন্ধু অজ্ঞান হয়ে যায়। আসলে এতক্ষণ পেটে কিছুই পড়েনি যার জন্য শরীর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এরপর চোখে মুখে জল দিয়ে কোনরকমে তার জ্ঞান ফিরে এলেও জল স্পর্শ পর্যন্ত করে না।

আরও পড়ুনঃ মিলে গেল বড় রানীর কথা! এখনো জীবিত বড় রাজা! সত্যের সন্ধান করতে গিয়ে রুদ্রকে টেক্কা দিল ফুলকি!

এদিকে সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়ে যায়। সকলেই জল খাবার কিছুই খায়নি। এদিকে সকলের আড়ালে শিরিন আর মধুরিমা স্যান্ডউইচ আর কোল্ড ড্রিঙ্কস খাচ্ছিল। সেই খবর পেয়ে পারুল আর রায়ান তাদের হাতে নাতে ধরতে যায়। শিরিনকে এভাবে দেখবে রায়ান সেটা কল্পনাও করতে পারেনি। তারপর রায়ান নিজেই শিরিন এর তার বন্ধুকে আন্দোলন থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। কারণ উপস্থিত সকলেই জানে যে তারা জল পর্যন্ত স্পর্শ করেনি কেউ সেখানে যদি কেউ দেখে নেয় আড়াল দাঁড়িয়ে শিরিনরা খাবার খাচ্ছে তাহলে তাদের পুরো আন্দোলনটাই বৃথা হবে। শিরিন তো রাগে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। এরপরে আবারো জারি থাকে আন্দোলন। পরের দিন সকালে হঠাৎ করে আন্দোলনের মাঝে এসে উপস্থিত হয় শিক্ষামন্ত্রী আর পুলিশ কমিশনার। শিক্ষামন্ত্রীকে আসতে দেখে শান্তি পায় পারুলরা। শিক্ষামন্ত্রী নিজেই এসে জানায় যাদের উপরে অন্যায় হয়েছে তাদের বিচার দেবেন, যারা অন্যায় করেছে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। এই কথা শোনার পর সকলেই তো ভীষণ খুশি হয়ে যায়। কারণ তাদের এত ঘন্টার আন্দোলন অনশন সব সার্থক হলো।

শিক্ষামন্ত্রী এসে জানিয়ে দেয় অবিলম্বে দুজন গুন্ডাকে গ্রেফতার করা হবে এবং যারা যারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের সবাইকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। আর যে লোকাল থানার পুলিশ কমপ্লেন নেয়নি তাকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। এসবের পর পারুলদের লড়াই যেন সার্থক হলো। তারপর শিক্ষামন্ত্রী নিজেই দু গ্লাস জল রায়ান পারুলের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে অনশন ভাঙতে। কারণ তারাই ছিল এই আন্দোলনের প্রধান মুখ। এরপরে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠে সবাই। রায়ান পারুল শিরিন এবং মধুরিমাকেও এই আন্দোলনে উৎসবে নিয়ে আসে। এরপর রায়ান উৎসবের মাঝেই পারুলকে তার মনের কথা জানিয়ে দেয়। পারুলকে বলে সে পারুলকে ভালোবাসে। এদিকে বাড়িতে ঢুকে দাদুর মুখোমুখি হয় রায়ান পারুল। প্রথম থেকেই এই বিষয়ে একেবারেই তাদের সাথে ছিল না। কিন্তু রায়ান পারুল জানায় তারা একসঙ্গে থাকলে যে কোন যুদ্ধ জয় করবে।

Back to top button