ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার! সংসারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে নামতে হয় অন্য পথে! কেমন ছিল পরিণীতা ধারাবাহিকের ঈশানীর অতীত জীবন?

বর্তমান সময়ে দর্শকদের চেনা মুখ ঈশানী চ্যাটার্জি (Ishani Chatterjee)। ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকের পারুল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে ঈশানীর জীবনের গল্পটা কী? লাইট ক্যামেরা একশন এর পিছনে অভিনেত্রীর বাস্তব জীবন কি সত্যিই এতটাই সহজ ছিল? আজ অভিনেত্রীর শুভ জন্মদিন। চলুন জেনে নি টেলিভিশনের ঝলমলে দুনিয়ার বাইরে তাঁর শৈশব-কৈশোর ছিল কেমন ছিল।
জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে প্রতিটি মানুষকেই কমবেশি নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আসতে হয়। ঈশানীর জীবনও ছিল তেমনই। অর্থকষ্ট, অনিশ্চয়তা, বাবার অসুস্থতা—সব পেরিয়ে তিনি আজ সফল। চলার পথে অভিনেত্রীর জীবনেও এসেছে অসংখ্য বাধা। কিন্তু কীভাবে? কেমন ছিল তাঁর জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়?
অভিনেত্রী পড়াশুনায় দারুণ মেধাবী ছিল। মা সেলাইয়ের কাজ করেই বড় করেছেন। ঈশানীর বাবা কন্ট্রাক্টর ছিলেন, কিন্তু প্রতি মাসে কাজ থাকত না। সংসার চালানোর জন্য তাই সেলাইয়ের কাজ করতেন মা। তখনকার সেই দুঃসময় আজও ভুলতে পারেন না ঈশানী। ঈশানী ছোট থেকেই দেখেছে মা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করতেন। রান্না করতেন, স্কুলে নিয়ে যেতেন, সেলাইয়ের কাজ করতেন। তাদের ঘরও ছিল খুবই সাধারণ। দোকানের পেছনে একটা ছোট্ট ঘর, যার ছাদ ছিল অ্যাসবেস্টসের। বৃষ্টি হলেই জল পড়ত, তখন বাবা-মা বালতি দিয়ে জল ধরে রাখতেন।
কিন্তু শুধু অর্থকষ্ট নয়, আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসে অভিনেত্রীর জীবনে। ঈশানীর বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমশ কিডনির সমস্যা বাড়তে থাকে, এরপর আসে হৃদরোগ। চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যাওয়ার পথে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের উপর।
আরও পড়ুনঃ ‘মেয়েরা সব অখাদ্যই হজম করতে পারে!’ থাইল্যান্ড গিয়ে কুমিরের মাংস, সাপের মাথার স্যুপ ভক্ষণ! অলিভিয়ার কীর্তি ফাঁ’স করলেন সৌরভ!
ঈশানী তখনও ছোট। বাবার চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা লাগত। মা সেলাইয়ের কাজের পাশাপাশি একটা মুদির দোকানও চালাতেন। অভিনেত্রীও মায়ের পাশে দোকানে বসতাম, পাশাপাশি বই নিয়ে বসে পড়াশোনা করতেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ঈশানীর মা চেয়েছিলেন মেয়েকে ডাক্তার বানাবেন। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার খরচ অনেক। কিন্তু জীবন ঈশানীকে অন্য পথে নিয়ে আসে। পড়াশোনায় টপার হওয়া সত্ত্বেও মডেলিং করতে শুরু করে। তারপরই সেখান থেকে অভিনয়ের সুযোগ আসে তাঁর কাছে। আর সেই সুযোগই বদলে দেয় তাঁর ভাগ্য।

