কর্মজীবন শুরু মাত্র ৮০ টাকায়, পরিশ্রম আর প্রতিভায় কীভাবে সত্যজিৎ রায় হয়ে উঠলেন বিশ্বখ্যাত পরিচালক!

সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) জন্মবার্ষিকী আজ। তাঁর ছবি বাঙালির কাছে আবেগ। নায়ক থেকে মহানগর, পথের পাঁচালি , অপুর সংসার সহ একগুচ্ছ ছবি সিনেমাপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন তিনি। বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। সত্যজিৎ রায়কে সারা বছর মনে রাখে বাঙালি। বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সত্যজিৎ রায় করেছিলেন অক্লান্ত পরিশ্রম।

তবে শুধুমাত্র পরিচালক হিসেবে নয়, সত্যজিৎ রায়ের আরও অনেক প্রতিভাই ছিল। সুরকার হিসেবে সত্যজিৎ রায় ছিলেন ভীষণ দক্ষ। প্রথম দিককার কিছু সিনেমা বাদ দিলে তাঁর বেশিরভাগ সিনেমায় নিজেই গান লিখেছিলেন সত্যজিৎ। এমনকী সুরও দিয়েছিলেন বেশিরভাগ গানে। পথের পাঁচালী, পরশ পাথর এবং অপুর সংসারের সঙ্গীত রচনা করেছিলেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর। সত্যজিতের লেখা বইতে সব স্কেচই তার আঁকা। তার সমস্ত প্রধান চরিত্রের একটি মুখ তিনি নিজেই এঁকেছিলেন।

চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। তিনি বেশ কয়েকটি ছোট গল্প এবং উপন্যাস রচনা করেছেন, প্রাথমিকভাবে শিশু-কিশোরদের পাঠক হিসেবে বিবেচনা করে। কল্পবিজ্ঞানে তার নির্মিত জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র গোয়েন্দা ফেলুদা এবং প্রোফেসর শঙ্কু।

প্রেসিডেন্সি কলেজ ও শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করেন সত্যজিৎ রায়। তবে পড়াশোনার পর গতানুগতিক পেশায় নিজেকে জড়াতে পারেননি সত্যজিৎ।চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন ছিল তার। সে স্বপ্ন হাজারো ডানা পেতে শুরু করে ১৯৪৯ সালে ফ্রেন্স পরিচালক জঁ রনোয়ার সঙ্গে পরিচয়ের পর। সিনেমাটি ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট ডকুমেন্টরি ফিল্ম’ অর্জন। ৩২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি সত্যজিৎ রায় পেয়েছেন ‘বিবিসির শ্রেষ্ঠ বাঙালি’ উপাধি। পাশাপাশি, তার সাফল্যের ঝুঁড়িতে আছে পদ্মভূষণ ও ভারতরত্নের মতো সম্মানজনক পুরস্কার।

আরও পড়ুনঃ নতুন চমক টিআরপি তালিকায়! জলসাকে পরাস্ত করে বাজিমাত করল জি বাংলা! জগদ্ধাত্রী না পরিণীতা কে হল টপার?

কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটে ৭১ বছরে। তবে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মনে আজীবন অক্ষুণ্ণ থাকবে সত্যজিৎ রায় নামটি। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ১৯৯২ সালের অস্কার আসরে সত্যজিৎ রায়কে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

Back to top button