“বাবা আমাকে চিঠি লিখেছিলেন, বাড়ি ফিরে পড়লাম, পরের দিন সকালে কিছু না বলেই…” – আবেগপ্রবণ শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়!

এই মুহূর্তে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ব্যস্ত অভিনেতা হলেন শাশ্বত চ্যাটার্জী (Saswata Chatterjee)। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সাথে সাথে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিও কাঁপাচ্ছেন অভিনেতা। এছাড়াও OTT প্লাটফর্মেও বেশ জাঁকিয়ে বসেছেন তিনি। শুধুমাত্র বাংলা নয় পাশাপাশি হিন্দি ওটিটি প্লাটফর্মেও কাজ করেছেন তিনি। এরই মধ্যে শাশ্বত বিদ্যা বালান (Vidya Balan), সুশান্ত সিং রাজপুত (Sushant Singh Rajput), কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut) এর মত বড় বড় তাবড় অভিনেতা অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন।
কয়েক বছর ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন শাশ্বত চ্যাটার্জী। বাংলা, হিন্দি দুই ইন্ডাস্ট্রিতে দাপিয়ে কাজ করছেন বছরের পর বছর ধরে। ইতিমধ্যেই হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একাধিক কাজ করেছেন তিনি। তবে এই জায়গায় আসার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। বর্তমানে স্টার কিডরা যেমন অনায়াসে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্লাটফর্ম পেয়ে যায় আগেকার দিনে বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের জন্য গর্ববোধ করত।
সেরকমই প্রচ্ছন্ন সাপোর্ট কিন্তু শাশ্বত সব সময়ই পেয়ে গিয়েছেন বাবার থেকে। কিন্তু ক্যামেরার সামনে সেভাবে তাকে কখনোই ছেলের প্রশংসা করতে শোনা যায়নি। তবে কোনওদিনই কি ছেলের অভিনয়ের প্রশংসা শুভেন্দু করেননি? সম্প্রতি স্ট্রেটআপ উইথ শ্রী- ইউটিউব চ্যানেলের এক সাক্ষাৎকারে মনের কথা শেয়ার করলেন শাশ্বত। ফিল্মি কেরিয়ারের একদম শুরুতে শাশ্বতকে স্পষ্ট শুভেন্দু বলে দিয়েছিলেন, অভিনয়টা ভাত রান্না নয়। একটা প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। দূর থেকে খুবই ঝকঝকে লাগে এই দুনিয়া। কিন্তু আসলে খুবই কঠিন এই সিনে জগত।
সিনেমা, শুটিংয়ের কথা কখনই বাড়িতে আলোচনা করতেন না। এমনকী, বাড়িতে কোনও ফিল্মি পার্টিও হত না। তবে একবার শাশ্বতর এক টেলিফিল্ম দেখে ছেলের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। কিন্তু তা সামনাসামনি নয়, বরং চিরকূটে লিখে।
শাশ্বতর কথায়, “বাবা জীবনে আমাকে কোনওদিন বকেননি । একবার তাকালেই কাজ হয়ে যেত। যেদিন বাবা তুই থেকে তুমি বলতেন, সেদিন বুঝতে হবে, চাপ আছে। এমনিতে তুইই বলতেন, কিন্তু হঠাৎ যখন বাবার মুখে শোনা যেত, তুমি একটু সন্ধেবেলা বাড়িতে থেকো। কথা আছে। ব্যস, এটা শুনলেই আমার চাপ শুরু হয়ে যেত।”
আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! চোখের সামনে নেমে এলো অন্ধকার, গ্রাস করলো মৃ’ত্যু! তাঁর পরিচালিত শেষ ছবির মুক্তির অপেক্ষায় দর্শক!
অভিনেতা আরও জানালেন, “পরিচালক পার্থ সেনের ‘ফিরে আসা’ নামের একটা টেলিফিল্মে কুশল চক্রবর্তীর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। চুল পাকিয়ে একেবারে বয়স্ক লুক। পার্থদার বাড়ি গিয়ে টেলিফিল্ম দেখেছিলাম। সেদিন রাত ১২ টার সময় বাড়ি ফিরে দেখি বাবা যে চেয়ারটিতে বসতেন, তার পাশের টেবিলে একটা চিরকূট রাখা। লেখা রয়েছে, টেলিফিল্মে তোমার অভিনয় ভাল লেগেছে। বাবার থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে খুবই আনন্দ হয়েছিল। আশা করেছিলাম, পরের দিন হয়তো বাবার সামনে দাঁড়ালে, আরও প্রশংসা করবেন। কিন্তু তেমনটা হল না। পরের দিন সকালে বাবা আর কিছুই বলেননি। চুপচাপ খবরের কাগজ পড়ছিলেন। ফিরেও তাকায়নি আমার দিকে। এমনই ছিলেন তিনি।”

