মৃত্যুশয্যায় বারংবার একটি বাক্য বলেছিলেন উত্তমকুমার! সেটা শুনেছিলেন ডাক্তার! কী সেই কথা? জানলে চমকে যাবেন আপনিও!

বাংলা চলচ্চিত্র (Bengali Film) জগতের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা ছিলেন উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। উত্তম কুমারকে নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। তার সম্বন্ধে যত বলা হবে ততই কম বলা হবে। বাংলায় চলচ্চিত্র জগতে তিনি এক অন্য জোয়ার এনেছিলেন। সাদা কালো ছবির মাধ্যমেই মানুষের জীবনের রঙিন করে দিয়েছিলেন। তবে উত্তমবাবুর অকাল মৃত্যু সকলকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সেই সময় যেন ঝড় তুলে দিয়েছিল তার মৃত্যু। শোকের ছায়া নেমে এসেছিল গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে।

‘ওগো বধূ সুন্দরী’র শুটিং চলাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হন উত্তম কুমার। সেদিন অসুস্থতা নিয়েই শট দেওয়া শেষ করেছিলেন তিনি। কাউকে টেরও পেতে দেননি তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। সেই সময় খবরে এসেছিল, ‘ওগো বধূ সুন্দরী’র শুটিং ফ্লোর থেকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় কিছু একটা বিরবির করছিলেন মহানায়ক। তবে সেদিন মহানায়কের কথা বুঝতে পারেননি কেউ। বেলভিউতে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তার সুনীল সেনের তত্ত্বাবধানেই দ্রুত শুরু হয় উত্তমের চিকিৎসা। তখনও অস্পষ্টভাবে কিছু একটা বলে চলেছিলেন উত্তম।

সাল ১৯৮০, ২৩ জুলাই। উত্তম বাবুকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ লড়াই করছে বেলভিউের চিকিৎসকরা। আর তার পরের দিনই সেই দুঃসংবাদ। যা শুনে কেঁপে উঠেছিল গোটা বাংলা। ২৪ জুলাই, ১৯৮০। মহানায়কের মহাপ্রস্থান।

উত্তমের মৃত্যুর বহু বছর পর, তাঁর জীবনের শেষ কয়েকঘণ্টা নিয়ে এক বিনোদন ম্যাগাজিনে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ডাক্তার সুনীল সেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বহুদিন ধরেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন উত্তম। নিয়মিত ডাক্তারও দেখাচ্ছিলেন। নিয়ম মেনে ওষুধও খেতেন। তবে উত্তমকে বার বার লাইফস্টাইল বদল করার কথা বলা হত।

আরও পড়ুনঃ ‘তুমি ফেলে রেখে চলে গেছো, কিন্তু আমি তোমাকেই ভালোবাসি চলেছি’- স্বামীকে হারিয়ে আজও দিশাহারা সুভদ্রা মুখার্জি!

২৩ জুলাই, হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যর সঙ্গে লড়তে লড়তে, চিকিৎসক সুনীল সেনকে এই একই কথাই বলেছিলেন উত্তম। মৃত্যুর আগে মোট তিনবার হার্টঅ্যাটাক হয় তাঁর। ২৪ জুলাই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মহানায়ক। মহানায়কের মৃত্যুর ৪৫ বছর পরও, উত্তমের অভাববোধ করে গোটা টলিউড, অনুরাগীরা। তবে কি এমন কথা বলেছিলেন মহানায়ক? চিকিৎসা চলাকালীন ডাক্তারবাবুকে একটা কথাই বারবার বলছিলেন তিনি, ‘আমাকে বাঁচান ডাক্তার, অনেক কাজ বাকি!’

Back to top button