‘বিয়ের পর ১৬ বছর কোনো কাজ করিনি…’- শ্বশুর বাড়িতেই ছিলেন বন্দি! ভেঙে গেছিল সব স্বপ্ন! কিভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন রেশমি সেন?

একজন নারী যখন সংসার ও ক্যারিয়ারের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেন, তখন তাঁকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় পরিস্থিতির চাপে নিজের স্বপ্নকে কিছুদিনের জন্য পিছনে ঠেলে দিতে হয়। বিশেষ করে অভিনয় জগতের মতো জায়গায়, যেখানে প্রতিযোগিতা তীব্র এবং সময় চলে গেলে ফেরা অনেক কঠিন হয়ে যায়। অনেক প্রতিভাবান অভিনেত্রী সংসারের কারণে ক্যারিয়ার ছেড়ে দেন, আবার কেউ কেউ ফিরে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পর সেই জায়গায় নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা সহজ নয়।
টলিউডের মতো গ্ল্যামার দুনিয়ায় অনেকেই মাঝপথে হারিয়ে যান, অনেকে আবার ফিরে এসে নিজের অবস্থান গড়ে নেন। এই রকমই এক বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী রেশমি সেন। ব্যক্তিগত জীবনের কারণে একসময় অভিনয় ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে, কিন্তু বহু বছর পর তিনি আবার ফিরে এসেছেন ছোটপর্দায়। তবে এই দীর্ঘ ১৬ বছরের বিরতিতে তিনি কীভাবে নিজেকে সামলেছেন? মানসিকভাবে কতটা কঠিন ছিল সেই সময়? সেই নিয়েই মুখ খুললেন রেশমি।
![]()
প্রসিদ্ধ অভিনেতা কৌশিক সেনের স্ত্রী এবং অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের মা রেশমি সেন এক সময় থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সিনেমা বা ধারাবাহিকের অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। সংসার, মাতৃত্ব, পারিবারিক দায়িত্ব—সব মিলিয়ে অভিনয় করার সুযোগ তখন তাঁর কাছে প্রায় ছিল না বললেই চলে। যদিও তিনি কখনও ভাবেননি যে অভিনয়ে আর ফিরতে পারবেন না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্বাস কমতে থাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি জানতাম অভিনয় আমার রক্তে, কিন্তু সংসারের জন্য সবকিছু ছেড়ে দিতে হয়েছিল। মাঝেমধ্যে মনে হতো, আমার জায়গা হয়তো কেউ নিয়ে নিয়েছে, হয়তো আর ফিরতে পারব না। এটা সত্যিই মানসিকভাবে খুব কঠিন সময় ছিল।”
আরও পড়ুনঃ পারুলের বুদ্ধিতে রায়ানের সাস্পেনশন লেটার দাদুর হাতে! দাদুর রো’ষে কচু কা’টা রায়ান! ফাঁ’স ধারাবাহিকের আজকের পর্ব!
তবে সব বাধা কাটিয়ে তিনি ফিরে এসেছেন নিজের স্বপ্নের দুনিয়ায়। ১৬ বছর পর ছোটপর্দায় তিনি আবার নিয়মিত হচ্ছেন, আর এখন তাঁকে দেখা যাচ্ছে ভিডিও বৌমা – ধারাবাহিকে, যা সম্প্রচারিত হচ্ছে Colors Bangla-তে। তাঁর স্বামী কৌশিক সেন এবং ছেলে ঋদ্ধি সেন সবসময় তাঁকে সমর্থন করেছেন, আর দর্শকেরাও তাঁর এই ফিরে আসাকে ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন।
রেশমি বলেন, “ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর মনে হয়েছিল, যেন এক নতুন জীবন শুরু করলাম। ভয় ছিল, আমি কি পারব? দর্শকেরা কি আমাকে আবার গ্রহণ করবেন? কিন্তু তাঁদের ভালোবাসা পেয়ে মনে হচ্ছে, এত বছর পরেও কিছুই বদলায়নি।” তাঁর এই কামব্যাক শুধু একজন অভিনেত্রীর গল্প নয়, বরং তাঁদের জন্যও এক অনুপ্রেরণা, যাঁরা সংসারের কারণে নিজের স্বপ্নকে পিছিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন। রেশমির জীবন প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে ফিরে আসা সম্ভব, যত সময়ই লাগুক না কেন।

