মাত্র ২৭ বছরেই ফুরিয়েছিল প্রাণ! আগুনে ঝ’লসে গিয়েছিল মহুয়া রায়চৌধুরীর গোটা শরীর! এত বছর পর সামনে এলো মৃ’ত্যুর আসল রহস্য!

৮০ র দশকের জনপ্রিয় সুন্দরী অভিনেত্রীদের তালিকায় অন্যতম এক অভিনেত্রী হলেন মহুয়া রায়চৌধুরী (Mahua Roy Choudhury)। যেমন ছিল অভিনেত্রীর রূপ তেমনই ছিলেন দক্ষ অভিনেত্রী। কিন্তু জীবনের শেষ কয়েকটি দিন ভীষণ যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে। অভিনেত্রীর সেই অস্বাভাবিক মৃত্যু রহস্য আজও ভাবিয়ে তোলে সবাইকে। ১৯৮৫-এর ২২ জুলাই। আগুনে প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল মহুয়ার শরীর। বেঁচে থাকার লড়াই শেষ হয়ে যায় সেইদিন।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে ঝরে পড়ে অভিনেত্রীর প্রাণ। টলিউড ওইদিন নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। কিন্তু অভিনেত্রীর গায়ে সেদিন কিভাবে আগুন লেগেছিল সেটা নিয়ে আজও রহস্য রয়ে গিয়েছে টলিউডের অন্দরমহলে। নেটিজেনরা তো নানান রকম কথা বলেন, কিন্তু আসল সত্যিটা আজও চাপা পড়ে আছে। এই নিয়ে অনেকের অনেক রকম মতামত রয়েছে।

actress

মৃত্যুর আগে অভিনেত্রীর হাতে ২২টি ছবির কাজ ছিল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২২টির মধ্যে মাত্র চারটি ছবির কাজ শেষ করতে পেরেছিলেন। সাতটি অর্ধসমাপ্ত। বাকি ১১টা ছবি সই করেছিলেন শুধু। মহুয়ার মৃত্যুর খবর জানার পরেও টলিউডে শুটিং বন্ধ হয়নি। এই ইঁদুরদৌড়ই কি কেড়ে নিল প্রতিভাময়ী অভিনেত্রীকে? এই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি কেউ।

সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মহুয়া মুঠোভর্তি ছবি করলেও তাঁর পারিশ্রমিক নাকি ৩০ হাজারের বেশি ছিল না। অনেক ছবিতে তাঁকে প্রায় বিনা পারিশ্রমিকেও নাকি কাজ করতে হয়েছে। তারপরই একদিন অভিনেত্রীর আলাপ হয় স্বামী তিলকের সাথে। সেই আলাপ একেবারে পাল্টে দেয় অভিনেত্রীর জীবন। বাড়ির অমতে গিয়ে দুজনে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। অনেকেই মনে করেন এই তিলককে বিয়ে করাই হয় অভিনেত্রীর কাল, কিন্তু কি এমন হয়েছিল?

আরও পড়ুনঃ খুলে পড়লো নকল চুল! প্রমাণ নিয়ে চম্পট দিল পারুল! সবটা বুঝতে পেরে ভয়ে কাঁটা রায়ান! ফাঁস ধারাবাহিকের আজকের পর্ব!

দাম্পত্যের প্রথম তিন বছর দারুণ সুখের কাটে দুজনের। ওই সময়ে গোলা ওরফে তমাল চক্রবর্তীর জন্ম হয়। ছেলেকে খুব ভালবাসতেন মহুয়া। কিন্তু কাজের কারণে সঙ্গ দিতে পারতেন না। ক্রমশ, স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহ বাড়তে থাকে তিলকের। কারণ, মহুয়াও ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন, মদের নেশা ঘিরে ধরেছিল অভিনেত্রীকে। শেষের দিকে তিলক সঙ্গ দিতে না পারলে তিনি নাকি একের পর এক নায়কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। শোনা যেত, সেই তালিকায় কখনও তাপস পাল, কখনও অমোল পালেকর ছিলেন। অভিনয় দক্ষতা যত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, ততই ভিতরে ভিতরে নাকি ফুরিয়ে যাচ্ছিলেন মাত্র ২৭-এর মেয়েটি। চোখমুখে ক্লান্তি, অত্যাচারের ছাপ।

অগ্নিদগ্ধ হওয়ার দিন মহুয়ার সকাল শুরু হয় মদ্যপান দিয়ে। খবর, রত্না ঘোষালের বাড়িতে গিয়ে মদ্যপান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ওই মদ্যপ অবস্থায় কি তিনি গায়ে আগুন দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন? তিলক নাকি জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন, ছেলের দুধ গরম করতে বসেছিলেন মহুয়া। স্টোভ থেকে আগুন ধরে যায়। যদিও এই নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি, অনেকের মনে অনেক রকম সন্দেহ উঠে আসে।

Back to top button