গ্র্যান্ড হোটেল থেকে মিঠুন চক্রবর্তীকে ঘাড় ধাক্কা! কি হয়েছিল সেই রাতে?

টলিউড (Tollywood) বলিউড (Bollywood) ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ৮০-৯০ দশকের অন্যতম একজন সুপারস্টার হলেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। তবে এই মিঠুন চক্রবর্তী হয়ে ওঠার পিছনে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছিল একসময়। এমনি এমনি বাংলার এক সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে থেকে ডিস্কো ড্যান্সার হয়ে ওঠেনি তিনি। রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটিয়েছেন। পরিচালক প্রযোজকদের কটাক্ষ শুনেছেন। রাতের পর রাত না খেয়ে কাটিয়েছেন।
এমনও সময় গিয়েছে যখন বলিউডে কাজ পাওয়ার জন্য তাকে বড় বড় অভিনেতাদের ফাইফরমাস খাঁটতে হয়েছে। মুম্বাইতে থাকা খাওয়ার জন্য সামান্য টাকা টুকুও ছিল না তার কাছে। ফুটপাতেও কাটিয়েছেন রাতের পর রাত। সেই মিঠুন চক্রবর্তী আজ সকলের প্রিয় দাদা। যখন প্রথম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী তার মধ্যে হিরো হবার মতো কোনো রকম গঠন ছিল না অভিনেতার। ছিপচিপে চেহারা, চাপা গায়ের রং দেখে অনেকেই তাকে দূরে সরিয়ে দেন। সেইসময় বড় বড় অভিনেতা অভিনেত্রী তাকে দেখে দূরে সরে যেতেন। পরে তারাই আবার মিঠুনের সঙ্গে কাজ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

একবার আরও একটা বাজে ঘটনা ঘটেছিল অভিনেতার সাথে। কলকাতায় এসেছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও রেখা ছিলেন গ্র্যান্ড হোটেলে। দিনটা ১১ অক্টোবর ওইদিন ছিল অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিন। গ্র্যান্ড হোটেলেই বড় এক বার্থডে পার্টির আয়োজন করা হয়। যেখানে উপস্থিত ছিল ফিল্ম ইউনিটের লোকজন। সেই সময় মিঠুন চক্রবর্তী মৃণাল সেনের মৃগয়া ছবির শুটিং করেছেন। অমিতাভের সেই বার্থডে পার্টিতে নিমন্ত্রণ পেয়েছিলেন মিঠুন। কিন্তু সেখানেই ঘটে সেই লজ্জাজনক ঘটনা।
গ্র্যান্ড হোটেল থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয় মিঠুন চক্রবর্তীকে। পার্টি শুরু হয়। যত রাত বাড়তে থাকে, ততই জমজমাট। তখনই ঘটে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। কেউ ভাবতেই পারেননি এমন একটা বিশ্রী ঘটনা ঘটে যাবে। কিন্তু কেন মিঠুনকে ওইদিন ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল জানেন? জানলে আপনিও অবাক হবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘বলদের মত শোয়ার নেশায় টাকা আর প্রেম বিলিয়ে বেড়ায়…’ মেয়ে অহনাকে নিয়ে বিস্ফোরক মা! তবে কি মেয়ের মা হওয়া মেনে নিতে পারেননি তিনি?
সেইসময় মিঠুনের নাম পরিচয় কিছুই তৈরি হয়নি। নিজের পারফরমেন্স সেরে, পার্টিতে আসেন মিস শেফালি। গ্র্যান্ড হোটেলের বল রুমে ঢুকতেই সমস্যার শুরু। মিস শেফালি তাঁর বায়োগ্রাফিতে জানিয়ে ছিলেন সে রাতের ঘটনা। শেফালি বলেন, ‘বলরুমে ঢুতে গিয়ে হঠাৎ দেখি আমার সামনে এসে দাঁড়াল একটা লম্বা মতো ছেলে। একমাথা বাবরি চুল। গায়ের রং শ্য়ামবর্ণ। সেই ছেলেটা বলরুমে ঢুকতে বাধা দিল। স্পষ্ট বলল, আপনি কে? আপনাকে তো পার্টিতে ঢুকতে দেওয়া যাবে না! ছেলেটার মুখে সেই কথা শুনে মাথা গরম হয়ে গেল! আমি যে হোটেলে নিয়মিত পারফর্ম করি, সেখানে এমন অপমান। ম্যানেজারকে ডেকে সবটা বললাম। ম্যানেজার কী করবে ভেবে পাচ্ছেন না। স্পষ্ট বললাম, এই ছেলেকে ঘাড় ধরে হোটেল থেকে বার করে দিন! ছেলেটা তো আমার মুখে একথা শুনে থতমত। পরে জেনেছিলাম, সেই ছেলেটার নাম মিঠুন চক্রবর্তী। ওর কাঁধে দায়িত্ব ছিল ইউনিটের লোক ছাড়া আর কাউকে পার্টিতে ঢুকতে না দেওয়া। পরে মিঠুন ক্ষমাও চেয়েছিলেন। সেই সময় মিঠুনও আমায় চিনতা না, আমিও মিঠুনকে না। পরে দেখি সেই ছেলেটাই বলিউডের সুপারস্টার, হিন্দি সিনেমার ডিস্কো ডান্সার।

