বাস্তবতা বোঝার আগেই হাত ছেড়েছে বাবা মা! পাইকপাড়ার নোংরা বস্তিতে কষ্ট করে কেটেছে জীবন! সেই মেয়েই হয়ে উঠেছেন সেরা অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়!

বাংলা সিনেমায় (Bengali Film industry) দীর্ঘ ২৫ ধরে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন সন্ধ্যা রায় (Sandhya Roy)। ৬০- ৮০ দশকের মাঝামাঝি চুটিয়ে অভিনয় করেছেন অভিনয় জগতে। সাদাকালো দিয়ে শুরু হলে পরবর্তী সময়ে রঙিন টেলিভিশনের পর্দাতেও কাজ করেছেন। ১৯৪১ সালে নবদ্বীপের জন্য গ্রহণ করেন সন্ধ্যা রায়। এরপর সপরিবারে তারা চলে যান বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলায়। মাত্র ৭ বছর বয়সে পিতৃহারা হন সন্ধ্যা দেবী, এরপর ৯ বছর বয়সে মারা যায় তার মা। এত অল্প বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়ে একেবারে একা হয়ে পড়েন। তারপর মামা বাড়িতে অর্থ কষ্টের মধ্যে দিয়ে মানুষ হতে হয় তাকে।

এরপর তার এক বস্তিতে শরণার্থী হিসেবে ঠাঁই হয় তার। বস্তির সেই মেয়েদের সঙ্গে একদিন মামলার ফলে নামের একটি ছবির শুটিং দেখতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এরপর সেখানে পরিচালক পশুপতি নাথ চট্টোপাধ্যায় তার মুখ দেখে তাকে একটি ভিড়ের দৃশ্যে অভিনয় করার প্রস্তাব দেয় সেটাই ছিল অভিনেত্রীর প্রথম কাজ। এরপর সরাসরি যিনি সুযোগ পান অন্তরীক্ষ ছবিতে অভিনয় করার। সেই ছবিতে অভিনয় করার পর তাকে কখনো আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেতে থাকেন সন্ধ্যা রায়।

actress

এরপর একের পর এক গঙ্গা, মায়ামৃগ, কঠিন মায়া, আরোগ্য, শুভদৃষ্টি, রক্তপলাশ, দাদার কীর্তি, শ্রীমান পৃথ্বীরাজ, পলাতক সহ আরও অসংখ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বাংলায় সত্যজিৎ রায়, তরুণ মজুমদার, অঞ্জন চৌধুরী, তপন সিনহার মতন পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ রায়ান পারুলকে মিলিয়ে দিলেন স্বয়ং বাবা ভুবনেশ্বর! ভোকাট্টা অকৃতজ্ঞ শিরিন! ফাঁ’স ধারাবাহিকের আজকের পর্ব!

শুধুমাত্র বাংলা নয় হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল পূজা কি ফুল, জানে-আনজানে, আসলি-নকলি। চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পাশাপাশি যাত্রা, থিয়েটারে অভিনয় করেছেন। সন্ধ্যা রায়ের অভিনীত ছবি গুলির মধ্যে অন্যতম চর্চিত ছবি হল সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ এবং তরুণ মজুমদারের ‘ঠগিনি’।

তারপর ১৯৬৭ সালে বিখ্যাত পরিচালক তরুণ মজুমদারের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন। দীর্ঘ কয়েক বছর সুখে সংসার করার পর তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। আইনিভাবে ডিভোর্স না হলেও একসঙ্গে থাকতে না তারা। জীবনের অল্প কিছু সময় রাজনৈতিক ময়দানেও কাটিয়েছেন। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে মেদিনীপুরের ভোটে দাঁড়িয়ে সংসাদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও সেসব এখন অতীত। ২০২২ সালে স্বামী তরুণ মজুমদারের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। বর্তমানে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন সন্ধ্যা রায়।

Back to top button