বাবা হয়ে দেখতে হয়েছে মেয়ের মৃ’ত্যু! পেশাগত জীবনের চ’রম অসফল আর ব্যক্তিগত জীবনে চ’রম আঘাত! কেমন ছিল হেমন্ত পুত্র জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের জীবন?

বাংলার বিনোদন জগতে স্বর্ণযুগের এক ঝাঁক শিল্পীরা আজও প্রতিটা বাঙালির মননে উজ্জ্বল হয়েই রয়ে গেছেন। সে কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রী হোক কিংবা কোনো সঙ্গীত জগতের গায়ক-গায়িকা সকলের সৃষ্টি করা শিল্প আজও স্মৃতিচারণাতেই মুগ্ধ হয়ে ওঠে। এমনই এক সঙ্গীত শিল্পী যাঁর গান আজও বহু ভক্তদের কণ্ঠস্থ, তিনি হলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়।

৬০-এর দশকে হেমন্তবাবু ছিলেন অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক। এই গায়কের গাওয়া ‘ও নদী রে’ গানটি আজও সমান জনপ্রিয়তায় রয়েছে। নিজের সময়কালে জনপ্রিয়তার শিখরে থাকলেও ব্যাক্তিগত জীবনে বাবা হয়েও চেয়েছিলেন তাঁর সন্তানও যেনো প্রচারের আলোয় আসে। কিংবদন্তী শিল্পী রয়েছে এক মেয়ে ও এক ছেলে। হেমন্ত বাবুর মেয়ে রানুকে নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে আলোচনা হলেও তাঁর ভাই জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়কে কখনোই দেখা যায়নি বিনোদন জগতে কিন্তু, কেন?

entertainment singer

 

দুই ভাই বোন ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে গান শিখলেও জয়ন্ত বাবুর বরাবরই ইচ্ছা ছিল অভিনয়ে। তাই, জয়ন্ত ছোটবেলা থেকেই অভিনয় করতেন। মাত্র সাত কিংবা আট বছর বয়সে হেমন্ত মুখার্জীর পরিচালনায় ‘ফেরি’ সিনেমাতে শিশু শিল্পী হিসাবে অভিনয় করেছিলেন জয়ন্ত। এরপর ‘বিশ সাল পেহেলে’, ‘উমাং’-এর মত বিখ্যাত ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে।

হেমন্ত পুত্র এমনকি অভিনয় করার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি ছবিতে গানও গেয়েছিলেন। ‘বিশ সাল পেহেলে’, ‘বিবি ঔর মাকান’ আরো অনেক ছবিতেই গাওয়া গান রীতিমতো সেই সময় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। একটা সময়ের পর প্রোডিউসার হয়ে বিনোদন জগতে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখে। অভিনেতার প্রযোজনায় বেশ কয়েকটি টিভি সিরিজও গড়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ ৯ মাসের অপেক্ষার অবসান! মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন অনিন্দিতা! ছেলে হলো নাকি মেয়ে?

সবকিছুতে চেষ্টা করার পর ভাগ্য তাঁর কোনোবারেই সহায়তা করেনি। প্রসঙ্গতা বলা যায় অভিনেতার স্ত্রী হলেন ভারতের সিনে জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ, নাম মৌসুমী চ্যাটার্জি। এই সবকিছুর মধ্যে মৌসুমী-জয়ন্ত’র কন্যাকে নিয়ে সুখে সংসার করলেও তাঁদের জীবনে হঠাৎ ঘনিয়ে আসে বিপদ। ২০১৯ সালে মাত্র ৪৫ বছর বয়সী বড়ো মেয়েকে হঠাৎই হারিয়ে ফেলেন এই তারকা দম্পতি।

বিশেষত এই ঘটনা ঘটার পর থেকে নিজেকে আরও গুটিয়ে নেন জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়। বলাই বাহুল্য, মৌসুমীর সঙ্গে একটা সময়ের পর থেকে ক্যামেরা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে শুরু করলেন হেমন্ত পুত্র। বর্তমানে প্রযোজক তথা অভিনেতা বড় মেয়ের মৃত্যুর কারণে এবং পেশাগত জীবনে অসফলতা আসায় সবকিছুর থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পছন্দ করেন।

Back to top button