“আগের বার মায়ের জন্মদিনে আমি ছিলাম না, এখন আমি আছি কিন্তু মা আর নেই”- মায়ের মৃ’ত্যুতে শোকাহত ঋতুপর্ণা! জলে ভিজে গেল দুই চোখ!

দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২৩ নভেম্বর প্রয়াত হয়েছিলেন জনপ্রিয় টলি অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর (Rituparna Sengupta) মা নন্দিতা সেনগুপ্ত। ওইদিন দুপুর ৩টে নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রীর মা। বেলেভিউতে চিকিৎসক অনির্বাণ নিয়োগীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল নন্দিতা দেবীর।
মৃত্যুর আগে ১৫ দিন ধরে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিলেন নন্দিতা দেবী। কিডনির সমস্যা ছাড়াও বার্ধক্যজনিত আরও নানান শারীরিক সমস্যাতে ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা তাদের শেষটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছিলেন। আজ অভিনেত্রীর মায়ের জন্মদিন। এই দিনে মায়ের কথা মনে করে বেশ মন খারাপ হয়ে গিয়েছে অভিনেত্রীর।
জন্মদিনে মায়ের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন আমার মা সদাহাস্যময়ী, সব সময় হাসতে ভালবাসত। ঘাড়ে প্রচুর দায়িত্ব, মাথায় নানা সমস্যার বোঝা। মায়ের কিন্তু হাসিমুখ। জন্মদিনে তো মায়ের হাসি থামতই না। এই দিনে মা যেন আরও ছেলেমানুষ। বড় হওয়ার পর থেকেই আমি আর ভাই মায়ের জন্মদিন পালন করি। ওই দিন মায়ের পছন্দের সমস্ত রান্না হয়। যত দিন শাড়ি পরতে পেরেছে তত দিন নতুন শাড়ি, পরে নতুন জামা পরেছে। ভাই মায়ের মাথায় জন্মদিনের টুপি পরিয়ে দিত। সামনে সাজানো কেক। মা যেন কিশোরী। চওড়া হেসে কেক কাটত, আমাদের খাওয়াত। আজও কেক আসবে মায়ের জন্য। লাউ চিংড়ি, ফিশ ফ্রাই, ইলিশ— রান্না হয়েছে। নতুন জামা সাজিয়ে দিয়েছি ছবির সামনে। সব আছে, শুধু মা নেই। নেই, মানে কোথাও নেই…!
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন “গত বছর মায়ের জন্মদিনের দিন শহরে থাকতে পারিনি। শুটিংয়ে বাইরে ছিলাম। মায়ের কি অভিমান হয়েছিল? তাই সব ছেড়ে চলে গেল? এ বছর আমি কলকাতায়। মা এই প্রথম আমাদের থেকে কত দূরে। আজ ভাই বাড়িতে আলাদা আয়োজন করেছেন। মায়ের নামে পুজো দিয়েছি। বেশ কিছু অসহায়, দরিদ্র শিশু ও বয়স্ককে খাওয়াব।”
আরও পড়ুনঃ ভারতের পাশাপাশি নিউইয়র্কেও গ্রীষ্মের আগমন! এত বরফেও গায়ে নেই সোয়েটার! ট্রোলের মুখে জলসার গৃহপ্রবেশ!
অভিনেত্রী আরও বলেন “মা খেতে, খাওয়াতে খুব ভালবাসত বলে। আজ তোমার জন্য এত কিছু। তুমি কি আকাশপারে তোমার নতুন বাড়িতে বসে দেখতে পাচ্ছ মা? নিশ্চয়ই ভাল আছে? বেশি কিছু চাইছি না, কেবল আগে যেমন আগলে রাখতে আমায়— সে ভাবেই আগলে রেখো। আশীর্বাদ কোরো, যেন কাজ করতে করতে চিরবিদায় নিতে পারি।”

