“ইন্ডাস্ট্রিতে রে’প হয়না, এখানে ‘কিছু দিয়ে’ ‘কিছু পেতে’ হয়!”- কোন তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন অভিনেত্রী ইন্দ্রানী বসু মজুমদার?

ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Film industry) জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ইন্দ্রানী বসু মজুমদার (Indrani Basu Majumdar)। যিনি দীর্ঘ বেশ কয়েকবছর ধরেই বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি (Bengali Film Industry) থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্ত হঠাৎ করেই হারিয়ে যান। কেন এখন আর অভিনেত্রীকে দেখা যায় না জানেন?
দীর্ঘ কয়েক বছর পর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেখানেই তুলে ধরেছেন নানান কথা। যেগুলো এতদিন পর্যন্ত দর্শকেরা জানতেই পারেনি। অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে টেলিভিশনের পর্দায় কাজ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই নিজের ইচ্ছেতেই সরে আসেন। নিজের জন্যই বিরতি নেন।
অভিনেত্রী জানান তার হঠাৎ করে টিভির পর্দা থেকে সরে আসার জন্য কেউ দায়ী নয়, এটা সম্পূর্ণ তার নিজের সিদ্ধান্ত ছিল। এখনও ভালো স্ক্রিপ্ট পেলে তিনি কাজ করতে চান বলেই ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। অভিনেত্রী জানিয়েছেন “আমি নিজে নিজেই টেলিভিশনের পর্দা থেকে একসময় সরে আসি। বর্তমানে যদি কোনো ভালো কাজ পায়, ভালো স্ক্রিপ্ট পাই, অভিনয় করার সুযোগ পাই অবশ্যই কাজ করব।”
অভিনেত্রী আরো বলেন “যেমন মাঝে আমি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বেশ কিছু কাজ করেছি। ভালো স্ক্রিপ্ট পেয়েছি, তাই কাজ করেছি। তাই ভালো কাজ পেলে টেলিভিশনের পর্দায় আবার যে কোন সময় প্রকট হতে পারি।” অভিনেত্রীর জনপ্রিয় ধারাবাহিক গুলির মধ্যে অন্যতম হলো রূপকথা, এক আকাশের নিচে, মোহিনী সহ আরো অনেকগুলি।
আরও পড়ুনঃ “কেউ পাত্তা দেয়নি, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে”- অভিনয় করতে গিয়ে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার শিকার চন্দন সেন!
তবে অভিনেত্রী বর্তমান সময়ের অভিনেতা অভিনেত্রীদের কিছু কথা বলেছেন। যেমন আগে অভিনেতা অভিনেত্রীদের ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হতো। এখন সেই সময়টা কমে হয়েছে ১০ থেকে ১৪ ঘন্টা। তাদেরকে অভিনেত্রী বলেছেন “এখনকার অভিনেতা অভিনেত্রীরা খুব লাকি। আমরা একসময় ১৮ ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করেছি। মাঝ রাতে বাড়ি ফিরেছি। অনেক বাজে প্রস্তাব পেতে হয়েছে।”
কাস্টিং কাউচ নিয়ে অভিনেত্রী জানিয়েছেন “বর্তমানে এই কাস্টিং কাউচ সম্পর্কে অনেক কিছুই শোনা যায়। কিন্তু আমি কখনো এই ধরনের কোন অফার পাইনি। হতে পারে সেটা আমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা আমি স্পষ্ট বক্তা তাই। আমার শুরুটাই হয়েছিল না দিয়ে। স্লিভলেস পড়বো না, আউটডোর শুটিং করতে যাব না, সিগারেট খাব না। যদিও পরবর্তী সময়ে এই ধরনের অনেক সিন আমাকে করতে দেখা গেছে শুধুমাত্র চরিত্রটাকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্যই। ইন্ডাস্ট্রিতে রে’প হয়না, এখানে ‘কিছু দিয়ে’ ‘কিছু পেতে’ হয়, এ কথাটা প্রচলিত কথা আমি শুনেছি। কিন্তু আমাকে কোনদিনও এসব কিছু ফেস করতে হয়নি”

