পাননি বাবার ভালোবাসা! মায়ের গয়না বেচে চলেছে সংসার! স্কুলের ফিস দিতেও হিমশিম খেয়েছেন মা! অভাবের সাথে লড়াই করেই বেড়ে উঠেছেন অভিনেতা প্রান্তিক ব্যানার্জি!

অভাবের সাথে লড়াই করেই বড় হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা প্রান্তিক ব্যানার্জি (Prantik Bannerjee)। আজ তিনি অভিনয় জগতে সফল, কিন্তু তাঁর পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। একসময় পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করাও ছিল কঠিন। বর্তমানে প্রান্তিক ব্যানার্জি কেবল একজন সফল অভিনেতাই নন, বরং সংগ্রামী জীবনের এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর জীবনযুদ্ধ প্রমাণ করে, প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে কঠিন সময়কেও জয় করা সম্ভব।

প্রান্তিকের বাবা ছিলেন দায়িত্বজ্ঞানহীন, যিনি সন্তান ও পরিবারের প্রতি তেমন আগ্রহ দেখাননি। সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের কাঁধে। সংসার চালানোর জন্য মাকে গয়না পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছিল। স্কুলের ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও পড়তে হয়েছিল বিপাকে। কিন্তু তাঁর মা কখনো হার মানেননি। সীমিত সম্পদ ও সীমাহীন কষ্টের মাঝেও তিনি ছেলেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছেন।

ছেলেবেলা থেকেই প্রান্তিক চেয়েছিলেন অভিনয় জগতে নিজের পরিচিতি গড়তে। কিন্তু তা সহজ ছিল না। থিয়েটার থেকে টেলিভিশন, তারপর সিনেমা—প্রতিটি ধাপে তাঁকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক সময় অর্থের অভাবে অডিশন দিতে যেতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি আজ নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

এদিকে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ প্রান্তিকের। বেশ কিছুদিন আগে দিদি নং ১ এ এসে তাঁর মা জানায়, “ঝগড়ার সময় যখনই ওকে বলবো তুই আমায় মা বলে ডাকবি না ও বলতো যে ঠিক আছে তাহলে পাশের বাড়ির বৌদি বলে ডাকবো।” এই শুনে হাসিতে ফেটে পড়ে সঞ্চালিকা রচনা সহ দর্শকমন্ডল। প্রান্তিকের মা জানায় যে প্রান্তিক একা নয় তার সঙ্গে রয়েছে তার জমজ আর এক ভাই যাকে দেখতে একেবারেই প্রান্তিকের থেকে আলাদা কিন্তু মাত্র এক মিনিটের ছোট বড় তারা। এমনকি ওদের স্বভাব-চরিত্র সবই আলাদা। দুজনেই হয়েছেন দুবাইতে। প্রান্তিকের ভাই থাকেন দিল্লিতে এবং প্রান্তিক তার মায়ের সঙ্গে কলকাতাতেই থাকে।

আরও পড়ুনঃ রায়ানের প্ল্যান ভেস্তে পারুল করল বাজিমাত! জমে গেল গোপাল রুক্মিণীর প্রেম! টানটান উত্তেজনাময় আজকের পর্ব

সঞ্চালিকা রচনা বিয়ের প্রসঙ্গে প্রান্তিকের থেকে জানতে চাইলে তার মা জানায়, “ও বলে বিয়ে নাকি এখন সার্কাস আজকে হবে কাল ভেঙ্গে যাবে। তারপরে এত কষ্টের পয়সা অ্যালুমানি হিসেবে দিয়ে দিতে হবে” সঙ্গে প্রান্তিকও বলে, “ আমি এটা আরো বলি কারণ গড়ার থেজে ভাঙা বেশি দেখি। এত ভাঙ্গা দেখি বেশি তার থেকে মনে হয় ভাঙতে যাব না তার থেকে যেমন আছি ভালো আছি, এরকমই থাকলেই হয়।”

Back to top button