“স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই বাবা চলে গেল, কিছুই দেখে যেতে পারলো না”- বাবার অকাল প্রয়াণে আজও মন কাঁদে পরিণীতার!

জি বাংলার পর্দায় (Zee Bangla) মাস কয়েক আগেই শুরু হওয়া নতুন ধারাবাহিক গুলির মধ্যে একটি হল পরিণীতা (Parineeta)। জি বাংলা প্রোডাকশন হাউজের পক্ষ থেকে এই ধারাবাহিক শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই। ইতিমধ্যেই ধারাবাহিকটি টিআরপি তালিকায় ভালো ফলাফল করতে শুরু করেছে। ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্র অভিনয় করছেন অভিনেত্রী ঈশানি চ্যাটার্জী (Ishani Chatterjee) এবং অভিনেতা উদয় প্রতাপ সিং (Uday Pratap Singh)।

ধারাবাহিকের নায়িকা ঈশানি চ্যাটার্জী প্রথমবার কাজ করছে টেলিভিশনের পর্দায়, এটাই তার প্রথম প্রজেক্ট। ঈশানি দুর্গাপুরের মেয়ে। কাজে সূত্রে কলকাতাতে থাকছেন বহু বছর ধরে। মডেলিং জগতে বেশ পরিচিত ঈশানি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের হয়ে মডেলিং করেছে এর আগে। এই প্রথমবার অভিনয় জগতে পা রেখেছেন ছোট পর্দার হাত ধরে।

এক সাক্ষাৎকারে জীবনের নানান ওঠাপড়া দিক সম্পর্কে জানালেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রীর বাবা কতটা কষ্ট করেছেন। সেই কারণেই আজ এই জায়গায় আসতে পেরেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে পরিবারের স্ট্রাগল নিয়ে নানান আলোচনা করেছেন ঈশানি।

ঈশানি জানিয়েছেন খুব কষ্টে মানুষ হয়েছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায় “আমার বাবার একটি ছোট্ট স্টলের মত এক কামরার ঘর ছিল। সেখানেই তিনজন মিলে থাকতাম। বাবা প্রথমে ইলেকট্রিকের কাজ করতেন। কিন্তু একটা সময় সেই দোকান উঠে যায়। মা সেলাইয়ের কাজ করতেন। আমার বাবার স্বপ্ন ছিল তাদের একটা অনেক বড় ঘর হবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই বাবা মা’রা যান।”

আরও পড়ুনঃ “ঠাস করে মে’রে দেব” সবার সামনে গায়িকা ইমনকে চড় মা’রার হুমকি রচনার! কি এমন করলেন ইমন?

অভিনেত্রী আরও বলেন “আমার মা-বাবা কখনো আমাকে কোন অভাবের মধ্যে দিয়ে যেতে দেয়নি। আমাকে ভালো স্কুলে পড়িয়েছে, ভালো কলেজে পড়িয়েছে। কিন্তু বাবার সেই ঘর তৈরি স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তার আগেই বাবা মা’রা যান। বর্ষাকাল এলেই আমাদের আতঙ্ক হয়ে যেত। এই বুঝি জল পড়ে চারিদিক ভেসে গেল। কারণ আমাদের টিনের ঘর ছিল। আর সেখানে বর্ষাকালে জল পড়তো। চারিদিকে বালতি পেতে পেতে তখন আমরা কোনরকম ভাবে ম্যানেজ করতাম। কিন্তু নতুন ঘর বাড়ানোর সামর্থ্য তখন আমাদের ছিল না। বাবার একবার স্ট্রোক হয়ে গিয়েছিল, কিডনি ফেলিয়র হয়ে গিয়েছিল তারপর আমার বাবা হার্ট অ্যাটাকে মা’রা যান। এভাবেই অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাদের।”

Back to top button