‘অনেক বাসন মেজেছি, অনুরাগদার এঁটো থালাটাও আমি ধুয়েছি!’, পুরোনো স্মৃতি মনে পড়তেই কেঁদে ফেললেন দেব!

বর্তমানে টলিউডের সুপারস্টার বলতে যার নাম প্রথমেই উঠে আসে তিনি হলেন সকলের প্রিয় দেব (Dev Adhikari)। আজ থেকে কয়েক বছর আগে যাকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা হতো, যার সিনেমার ধরন দেখে হাসাহাসি করতেন দর্শক আজ তাকেই সুপারস্টারের জায়গায় বসিয়েছেন তারা। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নিজের ইমেজ একেবারে পাল্টে দিয়েছেন অভিনেতা।
একঘেয়ে কমার্শিয়াল ছবি থেকে বেরিয়ে এসে একের পর এক ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা দিচ্ছে দেব। টেক্কা, খাদান, বাঘাযতীন ইত্যাদি নানান রকম চরিত্রে একেকবার ধরা দিচ্ছে না অভিনেতা। তার ছবি প্রজাপতি বক্স অফিসে তো সুপার-ডুপার হিট ছিল। মোট ১০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে সেই ছবি। ‘অগ্নিশপথ’ ছবির সঙ্গে টলিউড জার্নি শুরু হয়েছিল দেবের। যদিও সেই ছবি বক্স অফিসে সফল হয়নি। তবে দেবের দ্বিতীয় ছবি ‘আই লাভ ইউ’ অভিনেতার ভাগ্যের টাকা ঘুরিয়ে দিয়েছিল সেই সময়।

তারপর থেকে পাগলু, পাগলু টু, চ্যালেঞ্জ, রোমিও, দুই পৃথিবী ইত্যাদি একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছেন অভিনেতা। তবে অভিনয় জগতে আসার আগে দেবের রাস্তাটা ছিল অনেক বেশি কঠিন। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তবে অভিনেতাকে আজ এই জায়গায় আসতে হয়েছে।
অভিনয়ে আসবার আগে ক্যাটারার বাবার সহকারী হিসাবে মুম্বইয়ের সিনে-ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন দেব। কলেজে পড়বার সময় বাবাকে কাজে সাহায্য করতেন দেব। একবার অনুরাগ বসুর টক শো ‘কে হবে বিগেস্ট ফ্যান’ শো-তে এসেছিলেন তিনি সেখানেই পরিচালক জিজ্ঞাসা করেছিল ‘আমি শুনেছি, সব টিফিন যখন বাড়ি থেকে চলে আসত, পুরো ঘরটা তুমি মুছতে…. সেখান থেকে তুমি আজ এখানে’। এরপরই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দেব। নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, ‘আমি অনেক বাসন ধুয়েছি। হয়তো তোমার থালাও ধুয়েছি। আমি অনুরাগদাকে অনেক আগে থেকে চিনি, দেখতাম শ্য়ুটিংয়ে। অনেকবার ছবি নিয়েও গেছি। এমনও হয়েছে অনুরাগদা খাবার খেয়েছে সেই প্লেট আমি ধুয়েছি। সেখান থেকে আজ তোমার সামনে বসে আছি, এটা আমার কাছে স্বপ্ন’।
আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! মর্মান্তিক ঘটনার শিকার টলিপাড়া! বছর শেষে হাসপাতালে শয্যাশায়ী এই জনপ্রিয় তারকা!
অভিনেতা আরও বলেন ‘প্রত্যেক ছেলে-মেয়ের দরকার বাবা-মা’র কাজকে সাপোর্ট করার। আমি আলাদা কিছু করিনি, যদি আমি হিরো না হতাম। ওই কাজটাই নর্ম্যাল হত আমার কাছে। মা বলত বাবাকে তুমি তো ইন্ডাস্ট্রির সবাইকে চেনো, ছেলের জন্য একটু বলতে তো পারো। বাবা বলত, আমি খুব ছোট্ট একটা টেকনিশিয়ান। তবুও বাবা এক দু’জনকে বলেছিল। আব্বাস-মস্তান, প্রকাশ ঝা-কে বলেছিল। আমি জানি বাবা নিজের জায়গা থেকে সরাসরি ওইভাবে বলতে পারেননি, আমিও চাইনি আমার জন্য বাবা কারুর কাছে ছোট হোক’।

