“ওনার কথা শোনার পর আমি যে মেয়ে সেটা ভাবতে ঘেন্না হয়”- সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগরে দিলেন তনিমা সেন!

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন অভিনেত্রী তনিমা সেন (Tanima Sen)। বাংলা চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন জগতে তার অবদান সত্যি অনস্বীকার্য। তিনি চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়, তবে তিনি একজন থিয়েটার শিল্পী হিসেবে শুরু করেছিলেন নিজের অভিনয় ক্যারিয়ার। ১৯৮৪ সালে, তিনি একটি স্থানীয় থিয়েটার গ্রুপে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেন।

এরপর একের পর এক ছবিতে, ধারাবাহিকে কাজ করেছেন। কমেডি চরিত্রে তার অভিনয় সত্যি ছিল অতুলনীয়। তার অভিনীত বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবি হল গোগোলের কীর্তি, অভিশপ্ত নাইটি, পথের শেষ কথা, প্রেম বাই চান্স, বন্ধু এসো তুমি, প্রেমের ফান্দে কাকাতুয়া সহ আরও অনেক। এছাড়াও টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর জনপ্রিয় ধারাবিক হল জন্মভূমি, রূপকথা, লাবনীর সংসার, শ্বাশুড়ি জিন্দাবাদ, বিবি চৌধুরানী ইত্যাদি।

অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য বড় বড় অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন। নিজের অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন বেশ কিছু পুরস্কার। বর্তমানে খুব একটা টিভির পর্দায় দেখা না গেলেও কিছুদিন আগেই আরজি কর কান্ডের জন্য খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল তার নাম।

আরজি কর কাণ্ডের পর তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়াতে সেখানে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, “আজকে আমার পুলিশ ভাই-বোনদের উদ্দেশে আমি কিছু কথা বলছি। হ্যাঁ, আমি ভাই-বোনই বললাম কারণ যারা এখনও চাকরি করছে, মানে শেষের দিকে আছে চাকরির, তারাও আমার থেকে একটু অন্তত ছোট। আর তাদের আমি হয়তো দিদির বয়সি। অনেকেরই আমি মায়ের বয়সি। আমি আপনাদের কাছে আজকে হাতজোড় করে একটা অনুরোধ করার জন্য এই ভিডিওটা করছি। আমাদের ছোটবেলা থেকে আমরা শুনে এসেছি, কলকাতা পুলিশকে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাঁদের এত দ্রুত সবকিছু সমাধান করে ফেলা, এত দ্রুত তাঁদের কাজের পদ্ধতি। তাতে নাকি বিদেশের, আচ্ছা আচ্ছা দেশের পুলিশরা মাথা নিচু করে ফেলত। আমি জানি আপনাদের মাথাতে এখনও সেই বুদ্ধি আছে। আপনারা ইচ্ছে করতে সব পারেন।”

আরও পড়ুন: দর্শকদের জন্য বিরাট সুখবর! ভৌতিক গল্প নিয়ে ছোট পর্দায় পা রাখছে অনির্বাণ ভট্টাচার্য।!

সাক্ষাৎকারে কি বললেন অভিনেত্রী তনিমা

এমনকি অভিনেত্রী তিলোত্তমার মা, বাবার বাড়িতেও গিয়েছিলেন। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন। তিলোত্তমার বাবা মাকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেননি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন ‘এই যে বর্তমানে পুরো বিষয়টাকে ধামাচাপা করার চেষ্টা করেছে সেটা অত্যন্ত জঘন্য ঘটনা। যেখানে নৃ’শংস ভাবে একটি মেয়ের প্রাণ চলে গেল সেখানে কি করে ঘটনাটাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। এই যে সবাই বলছে মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হয়ে কি করে এটা করতে পারেন, আমি বলব মহিলা পুরুষের ব্যাপার নয় এটা। কথাটা হলো মানুষের মানসিকতার। মানুষ হয়ে তিনি কি করে এই ঘটনা মেনে নিতে পারলেন। এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমার নিজেকে নিজের প্রশ্ন করতে ইচ্ছা করে আমি কি মহিলা? মহিলা বলে আমার নিজেকে এখন ঘেন্না হয়।’

Back to top button