উত্তম কুমারকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও সফল হিরো হতে পারেননি প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীর বাবা বিশ্বজিৎ!

উত্তম কুমারের সময় বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্য অন্যতম একজন ছিলেন বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী (Biswajit Chatterjee)। সেই সময় উত্তম কুমারকে যদি কেউ টেক্কা দিতে পারতেন তাহলে তিনি হলেন বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী (Biswajit Chatterjee)। বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্র নিজের অভিনয়ের ছাপ ফেলে গিয়েছেন বিশ্বজিৎ বাবু। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে রাতারাতি নিজের নাম জনপ্রিয়তা তৈরি করেছিলেন অভিনেতা। আজও অভিনেতা দর্শকের মনে অভিনয়ের জন্য রয়ে গিয়েছে।

মায়ামৃগ এবং দুই ভাই ছবিতে মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। সেইসময় দুটি ছবিই সুপারহিট হয়। তারপর বিশ্বজিৎ বম্বেতে চলে আসেন। বোম্বেতে এসে একের পর এক ছবিতে কাজ করতে থাকেন। তার অভিনীত ছবি গুলির মধ্যে রয়েছে মেরে সনম, শেহনাই , আসরা, লন্ডনে রাত, ইয়ে রাত ফির না আয়গি, এপ্রিল ফুল, কিসমত, দো কালিয়ান, ইশক পার জোর না। এবং শরারত। আশা পারেখ , ওয়াহিদা রেহমান , মুমতাজ , মালা সিনহা এবং রাজশ্রীর মতো অভিনেত্রীদের সাথে অভিনয় করেছেন বিশ্বজিৎ বাবু। অভিনেতার অভিনয় জীবন যতটা রঙিন ছিল, তার ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ঘটনা রয়েছে যা নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল অভিনেতাকে।
বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী বম্বে চলে যাওয়ার পর নতুনভাবে প্রেমে পড়েন তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইরার।দ্বিতীয়বার প্রেমে পড়ার আগেই বিবাহিত ছিলেন বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জী। কলকাতা তার প্রথম স্ত্রী রত্না চ্যাটার্জি এবং তার দুই সন্তান পল্লবী এবং প্রসেনজিৎ থাকতেন। স্ত্রী এবং দুই সন্তান থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয়বার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং পরবর্তী সময় বিয়ে করেন ইরা দেবীকে। বেশিরভাগ সময়ই বিশ্বজিৎ তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইরা চ্যাটার্জির সাথে মুম্বাইতে থাকেন। ইরা দেবী ছিলেন পেশায় একজন প্রযোজক, পরিচালক। তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।
বিশ্বজিতের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে টলি পাড়ায় রীতিমতন শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। অভিনেতাকে সেই সময় কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল। কেউই বিশ্বজিতের দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারেননি সেই সময়। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন যখন তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন সেই সময় অভিনেতার মা রত্না চ্যাটার্জী তাদের মাথার উপর ছাতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। একার হাতে সমস্ত কিছু সামলেছে। সংসার সন্তান সবকিছু নিজেই সামনে ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ জুডোর পোশাকে সেলাই শেখাতে বসল আঁখি! হল না শেষ রক্ষা! টানটান উত্তেজনাময় আজকের পর্ব
বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পরেও বাবার সঙ্গে যাতে কোনো রকম দূরত্ব তৈরি না হয় সেইদিকে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন রত্না দেবী। তাই এত বছর পরেও বাবা বিশ্বজিতের সঙ্গে প্রসেনজিৎ এবং তার দিদি পল্লবীর খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। মাঝেমধ্যেই বাবা কলকাতায় আসেন ছেলেমেয়েদের সঙ্গে দেখা করতে। এমনকি পল্লবীর সঙ্গে বাবার দ্বিতীয় পক্ষে কন্যা সন্তানের ভালো সম্পর্ক। প্রসেনজিৎ পল্লবী যেমন বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত। তেমনি বিশ্বজিতের দ্বিতীয় পক্ষের কন্যা সন্তানও বলিউডের একজন জনপ্রিয় নৃত্য শিল্পী।

