অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা বাঁ’চিয়ে তুলেছিল অভিনেত্রীকে! জেনে নিন তার লড়াইয়ের গল্প

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন অঞ্জনা বসু (Anjana Basu)। দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরেই অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী। বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দাতেও সমান তালে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে। তবে একটা সময় অভিনেত্রীর জীবনে নেমে এসেছিল অ’ন্ধকারের কালো ছায়া। সেই অ’ন্ধকার কাটিয়ে আজ আবারও অভিনয় জগতে চুটিয়ে কাজ করছেন অভিনেত্রী। জেনে নেব অভিনেত্রীর সেই ল’ড়াইয়ের কথা।
১৯৭৩ সালের ১০ই এপ্রিল হাওড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম হয় অঞ্জনা বসু। বাবা একটি নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু মেয়ে অভিনয় জগতে আসুক সেটা তিনি কোনদিনই চাননি। তবে ছোটবেলা থেকেই নাচ করতে ভীষণ ভালোবাসতেন। সেদিক থেকে কোন বা’ধা ছিল না শৈশবে ভরতনাট্যম শিখেছিলেন। তিনি হাওড়া গার্লস স্কুল এবং বিজয় কৃষ্ণ গার্লস কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করেন এবং কলকাতায় আসেন স্নাতকোত্তর করার জন্য। সেখানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। তার মাঝেই বিয়ে হয়ে তাকে পাটনায় চলে যেতে হয় স্বামীর সঙ্গে। যেখানে দীর্ঘ কয়েক বছর চুটিয়ে সংসার করার পর আবারো কলকাতায় ফিরে আসেন অভিনেত্রী এবং শুরু করেন নিজের ক্যারিয়ার।

মডেলিং দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন অঞ্জনা। এরপর একে একে ছোট পর্দা এবং বড় পর্দায় কাজ করতে শুরু করে। ২০০৩ সালে প্রথম আলফা বাংলায় “রবির আলোয়” নামক একটি ধারাবাহিকের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর ২০০৫ সালে তিনি ‘রাত বারোটা পঞ্চাশ’ নামে একটি ভূতের ছবিতে অভিনয় করেন। তারপর থেকে একের পর এক বড় পর্দা এবং টেলিভিশনের ধারাবাহিককে অভিনয় করেছেন। অংশুমানের ছবি, একা একা, দুর্গা, ঘর সংসার, বাই বাই ব্যাংকক, অদ্ভুত, ব্যোমকেশ ফিরে এলো, দূরবিন, পাকরাম এর মতো একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছেন।
কি হয়েছিল অভিনেত্রীর?
এছাড়াও টেলিভিশনের পর্দায় অসম্ভব, দুর্গেশনন্দিনী, ভালোবাসা ডট কম, গানের ওপারে, বধূবরণ, রূপসাগরে মনের মানুষ এর মতন ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বেশিরভাগ ধারাবাহিকেই অভিনেত্রীকে মা, মাসি, জেঠিমা, কাকিমার মত চরিত্রে দেখা গেছে। যদিও সেইসব চরিত্রেই ছাপ ফেলেছেন তিনি দর্শকদের মনে। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও নেমেছেন অভিনেত্রী। ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে তিনি বিধানসভার ভোটেও দাঁড়িয়ে ছিলেন লাভলী মৈত্রের বিপরীতে। তারপর এই ২০১৯ সালে অভিনেত্রীর জীবনে নেমে আসে অ’ন্ধকার, গু’রুতর অ’সুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। নার্স, আয়া সব সময় দেখাশোনা করত।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতির ময়দানে নামতেই নেমে এল স’র্বনাশ! কেমন আছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়?
কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন সেই সময়। শুধু একবার নয় দুই দুই বার অভিনেত্রীকে কোভিড আক্রান্ত করেছিল। দ্বিতীয়বার কোভিডের সাথে ডেঙ্গুও ধরা পড়েছিল। সেসময় ফুসফুস, কিডনি সবটাই নষ্ট হয়ে গেছিল। তারমধ্যে আবার জরায়ুতে টিউমার হয়েছিল, সেটাও অস্ত্রোপচার করে বাদ দিতে হয়েছে। এক কথায় সেই সময় অভিনেত্রী লড়াই করে বেঁচে ছিলেন। তবে বাঁচার অদম্য ইচ্ছে অভিনেত্রীকে আবারো ফিরিয়ে এনেছিল নতুন জীবনে। নতুন জীবনে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেই অভিনয় জগতে নেমেছিলেন।

