একমাত্র ভরসা মা, শূন্য থেকে শুরু করে আজ সফলতার শিখরে অভিনেত্রী!

বর্তমানে সমাজ অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজও এই সমাজে মেয়েদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়ে থাকে। মেয়ে এবং ছেলের মধ্যে বিভেদ করা হয়ে থাকে। কোনটা মেয়েদের কাজ কোনটা ছেলেদের কাজ এই সমস্ত ভেদাভেদ করা হয়ে থাকে। আর এই সমস্ত ঘটনা শুধু যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘটে তা নয় এমন অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী রয়েছেন যাদের সাথেও এই ধরনের ঘটনা বহুবার ঘটেছে।
তবে আজ ছেলেরা যেমন সমানভাবে ট্রেন চালাচ্ছে প্লেন ওড়াচ্ছে তেমন মেয়েরাও কিন্তু তাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই কাজগুলি করছে। মেয়েরা এক হাতে যেমন খুন্তি ধরতে জানে তেমন অন্য হাতে গাড়ির স্টিয়ারিংও ধরতে জানে। ঘর-সংসার সামলে অনেক মেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করছে বর্তমানে। আর সেরকমই টেলিভিশনের জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী ছোটবেলা থেকেই স্ট্রাগল করে আজ নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। সকলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের ইচ্ছে গুলোকে মর্যাদা দিয়েছেন। আজ সেই অভিনেত্রীর স্ট্রাগলের কথাই আপনাদের সামনে তুলে ধরব।
অভিনেত্রীর জীবন শুরু থেকেই সুন্দর স্বাচ্ছন্দ্যে ভরা ছিল না। ছোটবেলা থেকেই তাকে স্ট্রাগল করতে হয়েছে। তাই আজ এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রী জন্মগ্রহণ করেছিলেন উত্তর কলকাতার একটি বনেদি একান্নবর্তী পরিবারে। একান্নবর্তী পরিবারে থাকার যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনি খা’রাপ দিকে রয়েছে। অভিনেত্রী জানান দিদির পর তিনি ছিলেন তার বাবা মায়ের দ্বিতীয় কন্যা সন্তান। সেই কারণেই পরিবারের সদস্য, আশেপাশের সকলের থেকেই অভিনেত্রীর মা কে নানারকম কথা শুনতে হয়। অভিনেত্রী বাবা যদিও এসব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না তবে অভিনেত্রীর বাবা যেহেতু অনেক ছোটবেলাতেই মা’রা গিয়েছিলেন তাই সেখান থেকে মা এবং দিদির সঙ্গে তার বেঁচে থাকার ল’ড়াইটা শুরু হয়।
নিজের স্ট্রাগেলের কথা জানালেন অভিনেত্রী
অভিনেত্রী জানান ‘আমার বাবা ৯-১০ বছর বয়সে মা’রা যান। সেই সময় আমাকে মা এবং দিদিকে বাড়ি থেকে বে’র করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় আমাকে আমার মায়ের জন্য ল’ড়াই করতে হয়েছিল। সেখান থেকেই আমি স্ট্রাগল শুরু করি। কোনরকমে আমি আমার পড়াশোনা শেষ করেছিলাম।’ এছাড়াও তিনি জানান ‘১৭ বছর বয়সে আমার কাছে একটি অফার আসে। আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম তখনই কলকাতার একটি নামী সংবাদপত্রের পুজোর নন্দিনী কম্পিটিশনে আমার ছবি তুলতে চেয়েছিল। আমি প্রথমে না করে দিলে পরে ওরা অনুরোধ করায় রাজি হয়। পরে কাগজে এবং ম্যাগাজিনে আমার ছবি বেরিয়েছিল।’
‘এই ঘটনার পর বাড়ির লোকের অনেক ক’টুক্তি সহ্য করতে হয়েছিল। মা আমাকে বলে দিয়েছিলেন আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। এরপর একটি বড় প্রোডাকশন হাউজের তরফ থেকে নায়িকা চরিত্রের একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের জন্য অফার পেয়েছিলাম। কিন্তু সে সময় আমার মা আমাকে সেই কাজ করতে দেননি। কারণ নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করার জন্য ২০-২২ ঘন্টা শুটিং করতে হতো। আর তখন আমার পড়াশোনা চলছে। এরপরে মাকে না জানিয়ে একটি প্রজেক্টে কাজ করতে শুরু করেছিলাম। সেখানেও আমাকে হিরোইন চরিত্রের জন্য বাছাই করা হয়েছিল কিন্তু আমি অনেক অনুরোধ করেছিলাম যে আমি নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করতে পারবো না। তারপর তারা আমাকে অন্য একটি ভালো চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই সময় মাকে রাজি করিয়েছিলাম অনেক কষ্ট।’
এরপর অভিনেত্রীর কাছে ৫ টি ছবির অফার আসে। সেই ছবির সাইন ইন করানো হয়ে যায়। কিন্তু কোনো কারণে সেই ৫ টা ছবি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে অভিনেত্রী স্ট্রাগল করে। কিন্তু টেলিভিশন কখনো ফেরায়নি তাকে। একের পর এক ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। দর্শকের কাছে পেয়েছেন বিপুল ভালোবাসা। তবে এর পরে অভিনেত্রীকে আর কোন বড় চরিত্র বা হিরোইন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়নি। তবে এই নিয়ে অভিনেত্রীর মনে আর কোনো রকম অনুতাপ নেই।
টেলিভিশন জগতের সেই জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী হলেন ত্বরিতা চ্যাটার্জী (Twarita Chattejee)। দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী। বিভিন্ন ধারাবাহিকের পার্শ্বর চরিত্রে তাকে দেখা গিয়েছে। জি বাংলা, স্টার জলসা বিভিন্ন চ্যানেলে, বিভিন্ন ধারাবাহিকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে অভিনেত্রীর পরিচয় শুধুমাত্র এখানেই আটকে নেই। তিনি একজন ডায়েটিশিয়ান পাশাপাশি তারা তার নিজস্ব ডিজাইনিং বুটিক রয়েছে, এছাড়াও তার একটি নিজস্ব ক্যাফে রয়েছে। একার হাতেই তিনি এতগুলো দিক সামলাচ্ছেন দশ ভূজার মতো।

আরও পড়ুন: ধরা পড়েছিল মা’রণ রোগ! অর্থাভাবে শেষ জীবনেও করেছেন অভিনয়! চোখে জল আনবে অভিনেত্রী সংঘমিত্রার জীবন সংগ্রাম

