‘বাবা বলে মানি না’- বাবার প্রতি সমস্ত ক্ষো’ভ উগরে দিলেন ঋতাভরী

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)। অনেক ছোটবেলা থেকেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেত্রী। স্টার জলসার ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ হাত ধরে প্রথম অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন অভিনেত্রী। তারপর থেকে একের পর এক সিনেমা, ওয়েব সিরিজ এ কাজ করে চলেছেন। কর্মজীবনে তিনি সফল তো বটেই তবে ব্যক্তিগত জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঋতাভরীর সঙ্গে অনেক ছোটবেলা থেকেই ঘটেছে যা অভিনেত্রী আজও ভুলতে পারেনি। আমরা প্রত্যেকে অভিনেত্রীর মা এবং দিদিকে চিনি। তবে অভিনেত্রীর বাবার সম্পর্কে অনেকেই আমরা জানিনা। ঋতাভরী কোনদিনও সমাজের মাধ্যমে তার বাবার কে বা তিনি কোথায় এই নিয়ে মুখ খোলেননি।
তবে জানিয়ে রাখি ঋতাভরীর বাবা চলচ্চিত্র জগতের একজন জনপ্রিয় পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তী। বাবার সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক ততটাও মধুর নয়। চলতি বছর ৫ই এপ্রিল পড়ে গিয়ে কোমর এবং পায়ের হাড় ভা’ঙ্গে অভিনেত্রীর বাবার। বেশ কিছু সংক্রম’নেও আ’ক্রান্ত ছিলেন পরিচালক। অবশেষে ৯ই এপ্রিল তাকে এসএসকেএম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা হয়েছিল তার। পরে অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার তাকে শম্ভুনাথ অর্থপ্রেডিক্ট আন্ডারে শিফট করা হয়। এরপর টানা ২৩ দিন তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সুস্থ হয়ে বাড়িতেও ফিরেছিলেন।
তবে গত ২০শে আগস্ট তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যা’গ করেন নিজের রানীকুঠি সরকারি আবাসনে। ৭৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যা’গ করেন। বাবা হাসপাতালে থাকাকালীন তো দূর বাবার মৃ’ত্যুর পরেও অভিনেত্রী তাকে শেষবারের জন্য দেখতে যাননি। বাবার সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই তার দূরত্ব তৈরি হয়ে গিয়েছিল। নিজের মা এবং দিদির সঙ্গে তিনি ছোট থেকে রয়েছেন। মায়ের প্রতি বাবার অ’ন্যায় অবিচারের সব কথা শুনেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকে তাদের অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তাই নিজের বাবাকে পছন্দ করতেন না। তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক ছিল না তার ছোট থেকেই।
বাবার সম্পর্কে কি বললেন অভিনেত্রী
ঋতাভরীর বাবা অসুস্থ হওয়া পরই অভিনেত্রীর মা শতরূপা সান্যাল, দিদি চিত্রাঙ্গদা চক্রবর্তী এবং তাকে সমাজ মাধ্যমে অনেক কথা শুনতে হয়েছিল। সেই সময় মুখ খুলে ছিলেন অভিনেত্রী। অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন ‘গত ৩০ বছরে উনি আমাদের কোন খোঁজ খবর নেননি। তাহলে হঠাৎ করে কেন আমরাই বা তার খোঁজখবর নিতে যাব? সবাই কেন আমাদের পেছনেই পড়েছে বুঝতে পারছি না। উনার তো আরেকটি বউ-বাচ্চা রয়েছে। তাদের পিছনে পড়ুক। উনার তো আর একটা বিয়ে নয় এর আগেও উনি একজনকে বিয়ে করেছিলেন।’
আরও পড়ুন: স্যারের পেট থেকে কথা বের করতে জব্বর ফন্দি আঁটল স্রোত! নিজের প্ল্যানে সফল নিলু!
অভিনেত্রী আরো জানান ‘২৭ বছর তো উনি আমাদের কোনো দায়িত্বই নেন নি। শুধুমাত্র তার কথা শুনেছি, লোকটাকে চোখে পর্যন্ত কোনদিনও দেখিনি। আমার মা এবং দিদিকে কি কি সহ্য করতে হয়েছে সেই সব শুনেছি। তবে চার বছর বয়সের হালকা কিছু স্মৃতি রয়েছে।’ ঋতাভরীর ছোটবেলাতেই তার বাবা-মা আলাদা হয়ে যায়। ২০০০ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। মাকে মাঝ পথে একা ফেলে চলে যাওয়ার পর থেকেই ঋতাভরী বাবাকে পছন্দ করতেন না। বাবার মৃ’ত্যুর পরেও অভিনেত্রী বাবাকে দেখতে আসেননি। কারণ সেই সময় তিনি কলকাতার বাইরে ছিলেন। মা দিদিকে নিয়ে বরাবর থাকতেন ঋতাভরী। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে, এখনো মাকে নিয়েই রয়েছেন অভিনেত্রী।

