“এমনিই টিআরপি কম, এইভাবে চললে আর দেখাই হবে না”, মৌয়ের ঘ্যানঘ্যান, বীথি মাসির প্যানপ্যান, আর ভালো লাগছে না দর্শকদের, বড্ড একঘেয়ে!

এই মুহূর্তে বাংলা ধারাবাহিকে ত্রিকোণ প্রেমের গল্প দেখতে দেখতে বেশ ভালো মতোই হতাশ হয়ে গিয়েছেন দর্শকরা। তবুও স্টার জলসার (Star Jalsha) মেয়েবেলা (Meyebela) ধারাবাহিকটি একটু আলাদা হবে, এই আশায় দেখতে বসতেন। কিন্তু এটাও জানা কথা যে, টি আর পির চক্করে কত ধারাবাহিককে তার মোড় ঘুরিয়ে ফেলতে হয়। আর শুধুমাত্র সেই কারণে যেন সমীকরণগুলোও সব পাল্টে যায়।
আর সেই গল্পের প্লট যেন ঘুরে ফিরে একইরকম হয়ে যায় কিন্তু একটু আলাদা আন্দাজে। যেমনটা দেখা যাচ্ছে স্টার জলসার মেয়েবেলা ধারাবাহিকে। এই ধারাবাহিকেও একটা ত্রিকোণ প্রেমের ধরন দেখা যাচ্ছে কিন্তু অন্যরকম ভাবে। গল্পের প্রথমেই দেখা গিয়েছিল গল্পের নায়ক ডোডো একটি স্ক্যামে ফেঁসে গিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকার জালে ফেঁসে যায়। আর গল্পের আরও টুইস্টের খাতিরে তাঁকে বাড়িওয়ালার মেয়ে মৌয়ের সঙ্গে বিয়ে করতে হয়। আর এই বিয়ের জন্য ডোডোর সঙ্গে তার প্রেমিকা চাঁদনীর দীর্ঘ ১২ বছরের প্রেমকে জলাঞ্জলি দিতে হয়। এক প্রকার বাধ্য হয়েই তাঁকে বিয়ে করতে হয়।
তবে এসব কিছুর মাঝে লোন নিয়ে ২ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেন চাঁদনি।এদিকে ডোডো ঠিক করেছে সে টাকা ফেরত দিয়েছে। কিন্তু এর মাঝে দেখা যাচ্ছে একটু ত্রিকোণ প্রেমের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। আর এতেই যেন সেই একই দিকে গল্প ঘুরে ফিরে সেই একই ছন্দে এগিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও এই ধারাবাহিকে উঠে আসছে মহিলাদের নিজেদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝির সম্পর্ক। পরিস্থিতি যেন বার বার ঘুরে ফিরে অন্যদিকে ইশারা করে। কাউকেই কারোর সঙ্গে মানিয়ে থাকতে দেয়না। ডোডোর মায়ের মৌকে একদমই পছন্দ নয়। কারণ যদিও মৌ নয়, মৌ এর মা। এককালে মৌ এর মা ও ডোডোর মা খুব ভালো বন্ধু ছিল। কিন্তু ওই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
এদিকে মৌ এর মেসো একপ্রকার ঘাড় থেকে মৌকে নামাতেই এই বিয়ের শর্ত দেয়। আর সেই অনুযায়ী একটি সই করে আইনি বিয়ের অনুষ্ঠানও ঠিক হয়। চাঁদনী কিন্তু সবটা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছে। এতদূর অবধিও দর্শকরা মানিয়ে নিতে পারছিল।
এমনকী বীথি মাসিও এত নিজের ছেলেকে আঁচলে বেঁধে রাখছে! মৌ যত যা খুশি করে নিক, কিছুতেই কিছু পছন্দ নয় তাঁর। ওদিকে চাঁদনীও ঘুরে ফিরে যেন একই জায়গায়। এই ধারাবাহিকের মেইন ট্যাগলাইন, মেয়েদের শত্রু মেয়েরাই। সেসব মেনেও দর্শকরা দেখতে বসলেও, সবসময় কি শুধু কান্নাকাটি, অভিযোগ ভালো লাগে! কেউ কাউকে বুঝতেও চায়ও না, কেউ ভালো থাকতেও চায় না। আর এতেই ভীষণ একঘেয়ে লাগতে শুরু করেছে দর্শকদের। এবার সত্যিই ভাবাচ্ছে, প্লটে তাড়াতাড়ি পরিবর্তন না এলে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে এই ধারাবাহিক।

