সিনেমার থেকে কম কিছু নয় অক্ষয় টুইঙ্কলের বিয়ের গল্প! সমপ্রেম থেকে শ্বাশুড়ির সঙ্গে ন’গ্ন সিন, কোনও কিছুই বাদ যায়নি অক্ষয়ের তালিকায়!

বলিউডে তাবড় তাবড় তারকা জুটি রয়েছে যারা ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে থেকেই নিজেদের ভালোবাসা খুঁজে নিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম জুটির নাম হল বলিউডের খিলাড়ি অক্ষয় কুমার (Akshay Kumar) ও টুইঙ্কেল (Twinkle Khanna)। তবে এই বিয়ের জন্য বেশ ভালো মতোই কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছিল দুজনকেই। কারণ কিছুতেই নাকি এই বিয়েতে সায় ছিল না, মা ডিম্পল কাপাডিয়ার।
আর সেই নিয়ে আসতো একটি সিনেমা হয়ে যায়। এমনিতে নিজের থেকে বড় বা ছোট, যেকোনও নায়িকার সঙ্গেই কেমিস্ট্রি তৈরির ক্ষেত্রে একটি অসম্ভব ভালো সুনাম রয়েছে বলিউডের খিলাড়ির। আর সেখান থেকেই একবার শ্বাশুড়ি ডিম্পলের সঙ্গে ন’গ্ন সিনে অভিনয় করারও কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্য এমন অদ্ভুত তার খেলা দেখাতে থেকেছে যে, বিয়েটা শেষমেশ আটকানো যায়নি।
বলিউডের অন্যতম বিখ্যাত টক শো, কফি উইথ করনে একদিন বলিউড ডিভা ডিম্পল নিজে সেই সব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। বলিউডে তখন সদ্য সদ্য অ্যাকশন হিরো হিসেবে বেশ পরিচিতি পেতে শুরু করেছেন অক্ষয় কুমার। তখনই আসে তাঁর জীবনে সেই সুবর্ন সিনেমার অফার। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা, “খিলাড়িও কা খিলাড়ি” অক্ষয় কুমারের জীবনের একটি মাইল স্টোন। সেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন রেখা ও রবিনা টেন্ডন।

সেখানেই রেখার সঙ্গে একটি অন্ত’ঙ্গ ও ঘ’নিষ্ট মুহূর্ত রয়েছে। কিন্তু সেটির জন্য নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ রেখা ছিলেন না। বরং ছিলেন ডিম্পল। তখনও টুইঙ্কলের সঙ্গে পরিচয় হয়নি অক্ষয়ের। মেয়ে টুইঙ্কলের ক্যারিয়ারের দিকে নজর দেওয়ার জন্য সেই সিনেমা খারিজ করে দেন ডিম্পল।
পর যদিও ওই টক শোতেই জানান তিনি, ভাগ্যিস খারিজ করেছিলেন, নাহলে পরে নিজের জামাইয়ের সঙ্গে এই সিন দেখে তাঁর লজ্জায় মাথা কাটা যেত। তারপর সময়ের ছন্দে টুইঙ্কল ইন্ডাস্ট্রিতে আসেন। একের পর এক সিনেমা করেন। অক্ষয়ের সঙ্গে প্রেম হয়। এবং তারপরই বিয়ের প্রস্তাব রাখেন অক্ষয়।
কিন্তু তখনও সায় দেননি মা ডিম্পল। প্রথমে একটু শর্ত রেখেছিলেন তিনি।২০০০ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ধর্মেশ দর্শন পরিচালিত ছবি ‘মেলা’। এই ছবিতে আমির খান এবং ফয়জ়ল খানের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন টুইঙ্কল।
বলিউড ডিভা জানিয়েছিলেন, এই সিনেমা যদি ফ্লপ হয় তবেই অক্ষয়কে বিয়ে করতে পারবেন টুইঙ্কেল। তখন অক্ষয়ও মনে মনে মেনে নিয়েছিলেন যে এই সিনেমা ফ্লপ হবে না, তাই টুইঙ্কলও তাঁর জীবনে আসবে না। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে সেই সিনেমা।
তারপর আবার বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলে আবার সায় দেন না ডিম্পল। এমনকী নিজের এক জার্নালিস্ট বন্ধুর কাছ থেকে নাকি জেনেছিলেন যে অক্ষয় সমপ্রেমী। সেই কথাও জানান টুইঙ্কলকে। কিন্তু পরে জানতে পারেন তা সত্যি নয়। তবুও তখনও বিয়েতে মত না দিয়ে, এক বছর একসঙ্গে থাকতে বলেন। এবং এক বছর সুখে থেকে আজ এই দুই প্রেমিক প্রেমিকার পরিণতি আমাদের সকলেরই জানা। তাহলে, আপনারাই বলুন এই গল্প কি সিনেমার থেকে কম?