স্বপ্ন ছিল মস্ত বড় নায়ক হওয়ার! মেলেনি সফলতা! বর্তমানে রেস্তোরাঁ চালিয়ে দিন কাটছে তার!

হতে চেয়েছিলেন হিন্দি ছবির (Hindi cinema) নায়ক কিন্তু ভাগ্য তাকে তা হতে দেয়নি। ৪৩ টা ছবিতে অভিনয় করেও আসেনি তেমন সাফল্য। নায়কের চরিত্র থেকে সরে আসে খলনায়কের (Villain) চরিত্রে অভিনয় করে তার ক্যারিয়ার কিছুটা এগোলেও বলিউডের (Bollywood ) মাটিতে নিজের জায়গা কখনোই শক্ত করতে পারেননি তিনি। ক্রমেই হারিয়ে গেছেন অভিনয় জগৎ থেকে। বর্তমানে ব্যবসা করে দিন চালাচ্ছেন এই অভিনেতা।
কলকাতার ছেলে তিনি। ১৯৭৬ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি জন্ম হয় তার। তার পরিবার কিংবা আত্মীয়দের সাথে সিনেমা জগতের কোন যোগাযোগ ছিল না কখনওই। কিন্তু তার মনে জন্মায় অভিনয়ের আকাঙ্ক্ষা। ঠিক করেন অভিনয়কেই বেছে নেবেন জীবন নির্বাহের পথ হিসেবে। চোখে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দেন মুম্বাইতে।
বাড়ির অনুমতি নিয়েই কলকাতা ছেড়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান অভিনেতা। চোখে থাকা স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্য মুম্বাই পৌঁছেই শুরু হয় তার সংগ্রাম। দীর্ঘ ৬ মাস মুম্বাইয়ের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকেন তিনি। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে চেষ্টা করেও কাজ না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন অভিনেতা। তিনি কলকাতা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। বাড়িতেও জানিয়ে দেন সে কথা। কিন্তু ফেরার কিছুদিন আগেই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। ‘স্বভিমান’ নামক একটি হিন্দি ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ আছে তার কাছে। এই ধারাবাহিকে একটি ছোট চরিত্রে কাজ করেন অভিনেতা।
এরপরেই পরিচালক মহেশ ভাটের নজরে পড়েন তিনি। মহেশ ভাট তার পরিচালিত ছবি ‘দস্তক’ এ মুখ্য চরিত্রে সুযোগ দেন অভিনেতাকে। এই ছবিতে তার বিপরীতে নায়িকা হিসেবে কাজ করেন সুস্মিতা সেন। শাহরুখ খান ঐশ্বর্য রাই অভিনীত ‘জোশ’ ছবিতেও দেখা যায় তাকে। কিন্তু বলিউডে নিজের জায়গা শক্ত করতে ব্যর্থ হন অভিনেতা। ক্রমেই হারিয়ে যান বলিউডের জগৎ থেকে। বাংলা ছবিতে তাকে সুপারস্টার জিতের ‘ওয়ান্টেড’ ছবিতে দেখা যায়।
ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেতার প্রেমের গল্প ছিল একসময়ের চর্চার বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নাতনী কোয়েল বসুকে তিনি বিয়ে করেন ২০০৮ সালে, যা তখন হয়ে উঠেছিল খবরে শিরোনাম। এখন পাকাপাকিভাবে পরিবার নিয়ে মুম্বাইতেই থাকেন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্যে দেবার আসল পরিচয়❗টানটান উত্তেজনাময় আজকের পর্ব
কথা হচ্ছে অভিনেতা শরদ কাপুরের। সিনেমার ক্যারিয়ার যখন আর এগোচ্ছে না এবং ভবিষ্যতেও সিনেমায় আর কিছু করে উঠতে পারবেন না বলে বুঝতে পেরেছিলেন তখনই শুরু করেন রেস্তোরাঁর ব্যবসা। অভিনেতা হিসেবে সাফল্য না পেলেও ব্যবসায়ী হিসেবে কিন্তু সাফল্য পেয়েছেন শরদ কাপুর। মুম্বাইয়ে রেস্তোরাঁ থেকে ভালোই আয় করতে শুরু করেন অভিনেতা। বর্তমানে মুম্বাইয়ের পাশাপাশি ব্যাঙ্গালুরুতেও রয়েছে তার রেস্তোরাঁ। রেস্তোরাঁ মালিক হয়েই কি তিনি শেষ পর্যন্ত খুশি থেকে যাবেন নাকি আবার ফেরার চেষ্টা করবেন রুপালি পর্দায় এখন সেটাই দেখার।

