অনেকের না বলা কথা আজ বলছে পর্ণা! সংসার, স্বামী সবকিছুর উর্ধ্বে আত্মসম্মানবোধ, নিম ফুলের মধু চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে দর্শকদের!

নিম ফুলের মধু (Neem Fuler Modhu) ধারাবাহিকটি কিন্তু প্রথম থেকেই এমনি এমনি টি আর পি (TRP) কুড়িয়ে নিচ্ছে না। ধারাবাহিকে নির্মাণ ও তাতে পর্নার যে চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে, তাতে কিন্তু দর্শকরা বেশ ভালো মতোই জড়িয়ে যাচ্ছে। সাধারণত ধারাবাহিকে গল্পের গরু গাছে চড়িয়ে দেওয়া হয়।
নিম ফুলের মধুতেও বহু ক্ষেত্রে তাঁর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। বরং এখানেও সেই ভুলভাল ব্রত, বার বার নায়িকার কাছ থেকে নায়ককে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা, তৃতীয় ব্যক্তির আগমন সবই রয়েছে। কিন্তু তার মাঝেও যেন বার বার সাধারণ মধ্যবিত্ত বাড়ির সদ্য বিয়ে হওয়া বউ এর বহু সমস্যার কথা তুলে ধরেছে এই ধারাবাহিক।

একটি নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে সাবলম্বীভাবে বড় হওয়া মেয়ে পর্না। তাঁর নিজের বর সৃজনের সঙ্গে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজই হয়। কিন্তু একটি যৌথ পরিবারে যা যা সমস্যা থাকে, এখানেও তাই রয়েছে। সবথেকে বড় সমস্যা হচ্ছে একজন দজ্জাল শাশুড়ি। সে বিয়ে করে বাড়িয়ে বৌমা আনলেও, ছেলেকে আঁচল ছাড়া করতে নারাজ। এদিকে, ছেলেও কিন্তু বেশ মা নেওটা।
এটা ধারাবাহিকের বেশ কিছু মোড়েই বোঝা যায়। যেমন, পর্না এই মধ্যবিত্ত বাড়ির মাস শেষে অর্থনৈতিক টানাটানির বিষয় চোকাতে ও নিজের সখ আহ্লাদ নিজেই পূরণ করার জন্য তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরিতে ঢোকে। কিন্তু সেইসময় তাঁর কাছে রীতিমতো হয় সংসার আর নাহলে চাকরির মতো অপশন তুলে ধরা হয়েছিল। পর্না তখন চেয়েছিল, স্বামী সৃজন তাঁর পাশে এসে দাঁড়াক। কিন্তু কেউ যখন তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি, পর্না নিজের আত্মসম্মানকেই বেছে নিয়েছিলেন।
ওদিকে পর্নার এই কাজে বন্ধু সন্দীপনের সঙ্গে ঘোরা ফেরা স্বামী সৃজনের খুব একটা পছন্দের নয়। সেই নিয়েও অনেকরকম সমস্যা ও বাঁধা তৈরি করা হলে, নিজের কাজের মাঝে কোনও কিছুকেই বাঁধা হতে দেয়নি পর্না। বরং নিজের কাজকেই সবার আগে বেছে নিয়েছে।
এবার এত কিছুর মাঝে, যেখানে বর বউকে একসঙ্গে থাকতেটুকু দিতে চাইছিল না বাড়ির কেউ, তখন সৃজন জানায় যে সে বাবা হতে চায়। কিন্তু পর্না বোঝে, এত বড় দায়িত্বের জন্য সে এখনও তৈরি নয়। একটি বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনার আগে মাকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বহু পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আর নিজের কাজের মাঝে এখন সেইসব কিছুর জন্যই প্রস্তুত নয় পর্না। আর তাই, আবারও নিজের আত্মসম্মানকেই বেছে নিয়েছে সে। আর এতেই দর্শকরা এই ধারাবাহিককে এতটা ভালোবাসতে শুরু করেছে। হয়তো অনেকের না বলা অনেক কথা, পর্না বলে দেখাচ্ছে বলেই তাঁদের ভালো লাগছে।

