রাঙামতীর নিশানায় জংলি হাতি! প্রথম পর্বেই বাজিমাত রাঙামতী তীরন্দাজ

আজ থেকে স্টার জলসার (Star jalsha) পর্দায় শুরু হচ্ছে আরও এক নতুন ধারাবাহিক ‘রাঙামতী তীরন্দাজ’ (Rangamoti Tirandaj)। ধারাবাহিকের নায়িকা চরিত্রে দেখা মিলতে চলেছে নবাগতা অভিনেত্রী মনীষা মন্ডলকে। মনীষাকে এর আগে নতুন অন্য কোন ধারাবাহিকে দেখা যায়নি স্টার জলসার রাঙামতী তীরন্দাজের হাত ধরেই তার অভিনয় জগতে পা রাখা। মনীষার বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা যাবে অভিনেতা নীলাঙ্কুর মুখোপাধ্যায়কে, বেশ পরিচিত সে দর্শক মহলে। আজকে এই ধারাবাহিক প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সম্প্রচারিত হবে স্টার জলসার পর্দায়।
রাঙামতী তীরন্দাজ আজকের পর্ব ৩০ সেপ্টেম্বর (Rangamoti Tirandaj Today Episode 30 September)
ধারাবাহিকের আজকের প্রথম পর্বে দেখা যাবে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জঙ্গলে রাঙামতী নিজের নিশানার মাধ্যমে গাছ থেকে ফল পাড়ছে। সেই ফল পেড়ে নিয়ে গেছে ভগবানকে পুজো দিচ্ছে। আর ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে বলছে ভগবান যেন তার দিদিমণিকে ভালো রাখে, আজ তারা গ্রাম থেকে চলে যাবে। এতদিন তারা গ্রামের মধ্যে সকল ছেলেমেয়েদের এত ভালো শিক্ষা দিয়েছে। তাই তার যেন ভালো হয়। যাকে প্রোমোতে আমরা রাঙামতীর দিদিমণি হিসেবে দেখেছিলাম তিনি গ্রামের সকল বাচ্চাদের কবাডি, তীরন্দাজ সবকিছুর অনুশীলন করাচ্ছেন একটি মাঠে। রাঙামতীর দিদিমনির নাম নমিতা। তিনি এই গ্রামের সকল বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলেন। এই গ্রামের অসংখ্য বাচ্চা তার কাছে বিভিন্ন খেলার অনুশীলন নিয়ে থাকে।

অন্যদিকে পুজো দিতে দিতে রাঙামতী শুনতে পায় বুনো হাতির ডাক। হাতিটি উন্মাদের মতো ছুটতে ছুটতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসেছে। আর বেরিয়ে এসেই ছুটে যাচ্ছে গ্রামের দিকে। অন্যদিকে হাতির ডাকে শব্দ পেয়ে ছুটতে যায় রাঙামতী। অন্যদিকে দেখা যায় রাঙামতীর দিদিমণিকে আনতে এসেছে তার স্বামী। নমিতার সমস্ত কাজের তাকে সব সময় সাহস এবং ভরসা জুগিয়েছে তার স্বামী। নমিতার সব রকম কাজে তিনি পাশে থাকেন। আসলে এক গ্রামের মাঠে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে অংশ নেবে গ্রামের ছেলে মেয়েরা। আর সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে নমিতা এবং তার পরিবারের সকলে। আজ নমিতার এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই নিজের শিক্ষিকা জীবন থেকে রিটায়ারমেন্ট নেবে। মায়ের এই রিটারমেন্ট এর দিনে গ্রামে উপস্থিত হয়েছে। নমিতার ছেলে মেয়ে এবং বউমা সকলে। কিন্তু গ্রামে ঢোকার মুখে তাদের গাড়ি টায়ার পাংচার হয়ে যায়, সেই কারণেই অসুবিধার মুখে পরে সকলে। ওদিকে স্বামীর সাইকেলে চেপে কোয়াটারের দিকে যেতে থাকে নমিতা। তখনই নিজের স্বামীকে রাঙামতীর গুণের কথা বলেন তিনি। রাঙামতী যে একদিন অনেক বড় তীরন্দাজ হবে সেটাই তার স্বামীকে বলতে থাকেন।
এরপর দেখা যায় হঠাৎ গ্রামের এক ছেলে ছুটতে ছুটতে নমিতার কাছে আসে। এসে নমিতাকে জানায় জঙ্গল থেকে হাতি বেরিয়ে এসে গ্রামের দিকে ছুটে যাচ্ছে। এই খবর শুনে নমিতা সঙ্গে সঙ্গে ওই ছেলেটিকে বলে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে খবর দিতে, তারা এসে হাতিটিকে ঘুম পাড়ানোর ব্যবস্থা করে, নিয়ে যাবে। এদিকে গ্রামের মানুষের বিপদ শুনেই গ্রামের দিকে ছুটে যায় নমিতা তার স্বামীর সাথে। এরপরই দেখা যায় ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে লোক এসে হাজির হয় গ্রামে। নমিতা গ্রামের লোককে সাবধান করে দেয় যাতে কেউ হাতিটিকে আ’ক্রমণ না করে তাহলে সে কিন্তু পাল্টা আ’ক্রমণ করতে পারে।সেখানেই সবাই হাতিটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুমের ওষুধ পুশ করে হাতিটিকে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেই সময় দেখা যায় তাদের বন্দুকের ট্রিগার কাজ করছে না। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে রাঙামতী। রাঙামতী এসে বলে সে একবার চেষ্টা করে দেখতে পারে।
আরও পড়ুনঃ শুরুতেই আলাদা হয়ে গেল দু’ই বোনের দু’ই পৃথিবী! ধারাবাহিকের প্রথম পর্ব চোখে জল আনবে আপনারও
রাঙামতীর কথা শুনে প্রথমে সকলেই অবাক হয় ঠিকই কিন্তু নমিতা রাঙামতীকে ভরসা করে। তিনি রাঙামতীকে বলে রাঙামতী ঠিক পারবে হাতিটিকে নিজের নিশানায় ইনজেকশনের মাধ্যমে ঘুম পাড়িয়ে দিতে। এরপরে সকলে মিলেই রাঙামতীকে সাহস জোগাতে থাকে। রাঙামতীও ভগবানের নাম নিয়ে নিজের তীরন্দাজ বিদ্যার মাধ্যমে হাতিটির দিকে ইঞ্জেকশনের সিরিজ ছুড়ে দেয়, একদম সঠিক নিশানায় গিয়ে লাগে হাতিটির গায়ে। এরপরই দেখা যায় হাতিটি আসতে আসতে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তবে আগামী দিনে গল্প কোন দিকে মোড় নেয় সেটা জানার জন্য আপনাদের চোখ রাখতে হবে ধারাবাহিকের দিকে।

