‘স্ক্রিপ্টের মাথা মুন্ডু নেই, সম্মান করতে জানেনা, এভাবে অভিনয় হয় না’- বিস্ফোরক দেবেশ রায় চৌধুরী

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে (Tollywood Industry) জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন দেবেশ রায় চৌধুরী (Debesh Roychowdhury)। মূলত থিয়েটার জগতের মানুষ তিনি। তবে বেশ কিছু বাংলা ছবি এবং ধারাবাহিককে অভিনয় করেছেন তিনি। তপন সিনহা থেকে শুরু করে হরনাথ চক্রবর্তীর মতো একাধিক পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত থাকায় নেগেটিভ এবং পজেটিভ দুই ধরনের চরিত্রতেই অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাকে।

তবে এক সময় চুটিয়ে অভিনয় করলেও বর্তমানে তাকে আর বড় পর্দা অথবা ছোটপর্দায় সেভাবে দেখা যায় না। খুব বাছাই করা ছবি করেন এখন তিনি। সেই জন্য বর্তমান পরিস্থিতি, সিনেমার ধরন কেই দায়ী করেছেন অভিনেতা। সাক্ষাৎকারে সেই সমস্ত ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। একসময় বহুরূপীর মত থিয়েটার দলের সঙ্গে অভিনয় করতেন তিনি। সেই দলকেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিলেন। শম্ভু মিত্র তৃপ্তি মিত্রের মতন অভিনেতারা সেখানে অভিনয় করতেন।

actress

বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে অভিনেতা বলেছেন ‘বর্তমানে বাংলা সিনেমায় পরিস্থিতি শোচনীয়। সময় পাল্টেছে। এখন কিভাবে পয়সা ইনকাম করব কিভাবে মুখ দেখাব সেটাই চলছে। বর্তমানে যে কেউ চলে আসে অভিনয় করতে। নাচ জানে, গান জানে কিন্তু অভিনয় জানে না। আগে তো সিনিয়রদের কত সম্মান করা হত এখন তো সে পাঠ উঠেই গেছে। বড়দের সামনে সিগা’রেট খাচ্ছে, খারাপ ভাষা বলছে। আগে সবাই ভিতরে ঢোকা সুযোগই পেত না। এখন রথের মেলা হয়ে গেছে। যে যার মতো আছে। তবে শুধু আসছে যে তাই নয়, উচ্চারণ ভুলভাল করছে, স্ক্যানিং ভুলভাল করছে। স্ক্রিপ্টের কোন মাথা নেই, মুন্ডু নেই। কারা ঢুকছে কেন ঢুকছে বুঝতে পারছি না।’

অভিনেতার আরও বলেছেন, ‘বর্তমানে যেসব সিনেমাগুলো তৈরি হয় তার বেশিরভাগই পাতে দেওয়ার যোগ্য নয়। বেশিরভাগ সিনেমায় রয়েছে যেগুলো নন্দনের জায়গা পাওয়ার যোগ্য নয়। কিন্তু সেগুলো নন্দনে জায়গা পাচ্ছে এদিকে কত সিনেমা রয়েছে যেগুলো অনেক বেশি যোগ্য সেগুলো জায়গা পাচ্ছে না।’

আরও পড়ুনঃ সারাদিন সমাজ মাধ্যমে গালাগাল খাচ্ছে দুই শালিক নন্দিনী তিতিক্ষা! কিন্তু কেন?

এছাড়াও কমার্শিয়াল ছবি থেকে নিজেকে দূরে রাখার কারণ হিসেবে অভিনেতা জানান ‘আমি দূরে নেই, কিছু কিছু কারণের জন্য দূরে চলে যেতে হয়েছে। আমাদের কাজ মাঝেমধ্যে হয় সকাল আটটা থেকে রাত আটটা বা রাত দশটা অবধি। কাজ করতে যখন যাচ্ছি কাজ করব। এমন অনেক সময় হয়েছে গিয়েছে যখন গিয়ে বসে রয়েছি ঘন্টার পর ঘন্টা। দু তিন দিন মানা যায় প্রায়দিনই এরকম হতো ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে বসে আছি। আমার যদি ছোট কাজ থাকে তাহলে আমাকে সেটুকু কাজ করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হোক কিংবা সকাল আটটার সময় তাহলে ডেকে নিয়ে যাওয়ার কি মানে?’

Back to top button