সব কিছু খুইয়ে ভালোবাসার পাত্রী হতে হল মিঠিকে! মিঠি জোর করে হাসলেও, তাঁর জন্য সবাই কেঁদেছে! মিঠাই ধারাবাহিকের জগতে একের পর এক ইতিহাস গড়ে যাচ্ছে…

এখন প্রায় শেষের দিকে মিঠাই। কিন্তু মানতেই হবে, জি বাংলার (Zee Bangla) মিঠাই (Mithai) সিরিয়াল ধারাবাহিক প্রেমীদের একসঙ্গে অনেক কিছুর রসদ জুটিয়ে দিয়েছে। যেমন অনেক অনেক ভালোবাসার মিষ্টি মুহূর্তের উপহার দিয়েছে, তেমনই দর্শকদের কিন্তু বেশ ভালো মতো ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিয়েছে। আর এতেই কিন্তু মাঝে টি আর পি পড়তে শুরু করে এককালে টি আর পি শীর্ষে রাজ করা ধারাবাহিকের।

তবে ধারাবাহিকের শেষের দিকেও এখনও অবধি দর্শকদের মধ্যে রোজ রোজ নতুন উত্তেজনার স্বাদ দিতে ভুলছে না এই ধারাবাহিক। একসময় মিঠাইয়ের বেশ কিছু প্রোমোকে ঘীরে বার বার বচসার সৃষ্টি হচ্ছিল দর্শকদের মধ্যে। কারণ দর্শকরা মনে করছেন এই মিঠাইয়ের প্রতি ভালোবাসাকে নিয়েই পরিচালক ও রাইটার বারবার ছিনিমিনি খেলছেন। আর সেটাও করা হচ্ছে টি আর পির জন্য।

বহু আগে থেকেই দর্শকদের প্রমো দেখে মিঠাই অনুগামীরা বার বার ভাবছিলেন মিঠিই আসলে মিঠাই। তাই তাঁর সঙ্গে সিদ্ধার্থের বিয়ে হবে এবং সব স্মৃতি মনে পড়ে যাবে। কিন্তু সেসব কিছুই ঘটেনি। এদিকে আরও এক পর্বে দেখানো হয়েছে যে মিঠাই মিঠি সেজে আসছে।

মাঝে একটি প্রমোতে রীতিমতো দেখানোও হয় মিঠাইয়ের পুড়ে মরে যাওয়ার ঘটনাস্থলে সিদ্ধার্থ গিয়েছে। সেই পর্বে দর্শক মিঠিকেই দেখতে চাইলেও অবশেষে দেখা যাহ যে মিঠাইয়ের খুনিকে ধরতে মিঠি মিঠাই সেজে আসে। এছাড়াও ধারাবাহিকে বেশ কয়েকবার মিঠাইকে পিছন থেকে দেখানোও হয়েছে। কিন্তু আদতে মিঠাইকে কিছুতেই ফিরে পাচ্ছে না তাঁর অনুগামীরা।

তাই তাঁদের রাগ মিঠাইয়ের প্রতি দুর্বলতাকে বার বার সুড়সুড়ি দিয়ে টি আর পি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তারপর যদিও কেটে গিয়েছে অনেক কিছু। মিঠাইকে তারপর ঘটনাক্রমে ফিরে পায় সিদ্ধার্থ, মানে তাঁর উচ্ছেবাবু। তখন আরও স্পষ্ট হয় যে মিঠাই ও মিঠি এক নয়।

তবে তারপর ঘটে যায় অন্য ঘটনা। একটা সময়ের পর অনেকে গল্পের টুইস্টে আবার অনেকেই জোর করেই মিঠিকে ভালোবাসতে শুরু করল। তবে মিঠাই ফিরে এসেছিল আবার মিষ্টিকে নিয়ে। শাক্যকে যখন সবে মায়ের আদরে মিঠি জড়িয়ে ধরল তখনই মিঠাই ফিরে এল। অমনিই যেন ত্রিকোণ প্রেমের গন্ধ ভেসে এল।

কিন্তু এখানেই তো মিঠাই আলাদা হয়ে দেখাল। মিঠি মিঠাইকে নিজের প্রতিপক্ষ বা শত্রু হিসেবে ভাবা গল্প এদিকেই এগোনো স্বাভাবিক বরং মিঠি খুব কিন্ত আজ মিঠি দৃঢ়কন্ঠে জানিয়ে দিলো, মিঠাই ম্যামের হাতেই এই সংসার তুলে দিয়ে সে নিশ্চিত হবে।

কিন্তু এত কিছুর পরও মিঠাইকে নিয়ে একটু বেশিই পজেসিভ যারা, তাঁরা কিছুতেই মিঠিকে সহ্য করতে পারছেন না। তাই প্রত্যেকবার মিঠাইয়ের মতো করে মিঠির সাজ তাঁদের যেন একটুও পছন্দ নয়। বার বার মিঠিকে মিঠাইয়ের মতো সাজে দেখে তাঁরা রীতিমতো বিরক্তই হচ্ছেন। আবার শেষের দিকে দর্শকদের রীতিমতো ভাবানোও হয়, শুধু তাই নয় বেশ আবেগঘন হয়ে যান তাঁরা।

আসলে মিঠি যেন সব কিছু থেকেই ব্রাত্য। তবে সব কিছু ছেড়ে দিয়ে মানুষকে মানুষের সত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে যে মহানত্ব তা যেন মিঠি আরও একবার প্রমাণ করল সিডকে ডিভোর্স পেপারটি দিয়ে। মিঠির কেউ শত্রু নয়, বরং সবাই তাঁর পক্ষে। তাও যেন তাঁর আপন বলে কেউ নেই। তাই সব শেষে তাঁর দুঃখ মেশানো হাসি দর্শকদের কাঁদিয়েছে। মিঠাই যেন বার বাত সিরিয়ালের জগতে ইতিহাস তৈরী করছে। সবকিছু খুইয়ে সবার ভালোবাসার পাত্রী হতে হল মিঠিকে!

Back to top button