Dwijen Bandyopadhyay: মঞ্চ থেকে শুরু অভিনয় যাত্রা! নাট্যপ্রেমী তো বটেই সিনেমাপ্রেমীদেরও মন জয় করেছেন সহজেই, জন্মদিবসে ফিরে দেখা অভিনেতা দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের অজানা কাহিনী!

তার সহজ সরল প্রাণবন্ত অভিনয় মুগ্ধ করেছিল অগণিত থিয়েটার প্রেমী বাঙালীকে। চুটিয়ে অভিনয় করেছেন নাট্যমঞ্চে। নিজের অভিনয়গুণে মন জিতেছিলেন অসংখ্য বাঙালীর। ৮০ এর দশক থেকে রঙ্গমঞ্চ কাঁপিয়ে এসছেন তিনি। তিনি অভিনেতা দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায় (Dwijen Bandyopadhyay)। আজ তার জন্মদিবস।
১৯৪৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন অভিনেতা দ্বিজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পিতা সুধীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন প্রখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদ। দ্বিজেন বন্দোপাধ্যায় এর বরাবরই ছিলেন অভিনয় প্রেমী একজন মানুষ। পড়াশোনা শেষ করে অমৃতবাজারের চিফ একাউন্টেন্ট হয়ে শুরু করেন কর্মজীবন।

১৯৭২ সালে সুব্রত নন্দী নির্দেশিত ‘বাঘ বন্দি’ নাটকের মধ্য দিয়ে থিয়েটার দুনিয়ায় পা রাখেন দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর আর তাকাতে হয়নি পিছন ফিরে। দানসাগর, কুমার সম্ভব , ভাগ্য, বলিদান, গিরগিটির মত জনপ্রিয় নাটকের অভিনয় করেছেন দাপটের সঙ্গে। অমিত্রাক্ষর নাটকটি ছিল দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের একটি মাইলস্টোন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশিত প্রাণ তপস্যা, কুরবানী, আরোহন, তৃতীয় অংক নাটকেও অভিনয় করতে দেখা যায় দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
১৯৮২ সালে নিজের নাট্য সংগঠন সংস্তবের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। ১৯৯৩ সালে সংস্তব প্রযোজিত মুষ্টিযোগ নাটকটি বাংলার রঙ্গমঞ্চে একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে। এই নাটকের মধ্য দিয়েই দ্বিজেন বন্দোপাধ্যায় এবং মোহিত চট্টোপাধ্যায় দুটি পেয়েছিল বাঙালী নাট্যপ্রেমী মানুষরা। পরবর্তীতে তুষাগ্নি, অক্টোপাস লিমিটেড, এই ঘুম , ভুতনাথ প্রভৃতি নাটকের মধ্য দিয়ে নিজেদের যা চিনিয়েছিলেন এই অভিনেতারা।
৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে অগণিত বাঙালী মানুষকে নিজের অভিনয় গুনে ভুলিয়ে রেখেছিলেন দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়। নাটকের পাশাপাশি কাজ করেছেন বাংলা ধারাবাহিক এবং বাংলা ছবিতে। আবার যখের ধন, চুনি পান্না, দত্ত বাড়ির ছোট বউ কিংবা লাবণ্যের সংসার প্রভৃতি জায়গায় নিজের অভিনয়ের ছাপ ছেড়ে গেছেন তিনি। তরুণ মজুমদারের ভালোবাসার বাড়ি, সন্দীপ রায়ের গোরস্থানে সাবধান, যেখানে ভূতের ভয়, বাদশাহী আংটি, শৈবাল মিত্রের সজারুর কাঁটা, সৃজিত মুখার্জির অটোগ্রাফ এবং জাতিস্মরে অভিনয় করেছেন দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ দ্বিতীয় তিলোত্তমা যেন না হতে হয়! নারী সুরক্ষার দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি টলিপাড়ার স্ক্রিন ওয়ার্কার্সদের

বলিদান নাটকের জন্য ১৯৯২ সালে পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমী পুরস্কার পেয়েছিলেন বিজন বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছেন নিজের বন্দ্যোপাধ্যায়। জীবনের অন্তি ব্লগ নিয়ে এসে বার্ধক্য জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। ভুগছিলেন স্নায়ুজনিত সমস্যাতে। ২০১৭ সালের ২৭ এ ৬৮ বছর বয়সে সেপ্টেম্বর কলকাতার নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন এই অভিনেতা।

