নিজের আসল মায়ের সাথে আমেরিকা যেতে রাজি মিহি! আকাশ ভেঙে পড়ল মধুবণীর মাথায়!

সদ্য শুরু হওয়া জি বাংলার (Zee Bangla) বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হল ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ (Ke Prothom Kache Esechi)। মাত্র কয়েকমাস হয়েছে এই ধারাবাহিক শুরু হয়েছে টিভির পর্দায়। কিন্তু সেভাবে এই ধারাবাহিক এখনো দর্শকমহলে বিশেষ একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। ধারাবাহিকের জুটি ঋকদেব-মধুবণীর চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রীর মোহনা মাইতি (Mohana Maiti) এবং অভিনেতা সায়ন বোস (Sayan Bose)। এর আগে এই দুই অভিনেতা অভিনেত্রী যেই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন সেই দুই ধারাবাহিক ছিল দারুণ জনপ্রিয়, তবে তাদের জুটি বেঁধে কাজ দর্শকদের মনে খুব একটা দাগ কাটতে পারেনি।
ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে ঋকদেব-মধুবণীদের বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয় এসেছে। তারা হলেন ঋকদেবের রাঙ্গা কাকা এবং রাঙা কাকিমা। কিন্তু মধুবণীর কাছে তাদের অন্য এক পরিচয় রয়েছে। আসলে ঋকদেবের রাঙ্গা কাকা এবং রাঙা কাকিমাই হল মিহির আসল বাবা মা। মধুবণী তাদের দেখেই চিনতে পারে কিন্তু মধুবণীকে তারা চিনতে পারেনি। তাদের দেখার পর থেকেই মধুবণীর মনে মিহিকে হারানোর ভয় চেপে বসেছে।

কে প্রথম কাছে এসেছি আজকের পর্ব ১৬ সেপ্টেম্বর (Ke Prothom Kache Esechi Today’s episode 16 September)
ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখানো হবে ঋকের কাকা কাকিমাকে দেখার পর থেকেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে মধুবণী। তারপর তাকে দেখার জন্য বাড়িতে ডাক্তার আসে। ডাক্তার দেখার পর জানায় মধুবণী নিশ্চয়ই কোন কারণে খুব চিন্তা করছে। তাই তার প্রেসার হাই হয়ে রয়েছেন মধুবণীর এখন বিশ্রামের প্রয়োজন। কিন্তু ডাক্তারের কথা শুনে মধুবণী জানায় সে একদম ঠিক আছে মিহিকে ছেড়ে সে কোথাও যাবে না। আর খুব স্বাভাবিকভাবে মধুবণীর এই আচরণ দেখে বাড়ির প্রত্যেকে আশ্চর্য হয়ে যায়। কমলিনীর মনে তো নানান রকম প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। ঋকও মধুবণীকে জিজ্ঞাসা করে কি নিয়ে এত চিন্তা করছে সে।
এদিকে মধুবণীর মাথায় নানান রকম প্রশ্ন ঘুরতে থাকে কেন ঋকের কাকা কাকিমা ফিরে এল এই দেশে, তারা কি সবটা জানতে পেরেই ফিরে এসেছে তাদের মেয়েকে নিয়ে যেতে? এই সমস্ত নানান রকম প্রশ্ন ভিড় করতে থাকে তার মনে। এরপরে রাঙ্গা কাকা, কাকিমা নিজেদের ঘরে বিশ্রামের জন্য চলে যায় অন্যদিকে মিহিকে নিয়ে চলে যেতে চায় ঠাম্মা কিন্তু মধুবণী বাঁধা দেয়। তখন ঠাম্মা মধুবণীকে আশ্বাস দেয়।
এরপর ঋক মধুবণীর থেকে সব সত্যিটা জানতে চায়। তখনই মধুবণী সবটা খুলে বলে ঋককে। যে ঋকের এই কাকা কাকিমাই হলো মিহির আসল বাবা মা। এই কথা শোনার পর ঋকও আশ্চর্য হয়ে যায়। ঋক ভাবতে থাকে কি করে তার রাঙ্গা কাকা এবং কাকিমা এতটা নিচে নামতে পারল। এদিকে মধুবণী ঋকের কাছে বলতে থাকে সে যেন মিহিকে আগলে রাখে, তার থেকে দূরে যেতে না দেয়। কিন্তু ঋক মনে মনে ভাবতে থাকে যদি তার কাকা কাকিমা সামনে কোনদিনও আসল সত্যিটা আসে, আর তারা নিজেদের সন্তানের দাবি করে তাহলে ঋক কোনোভাবেই আটকাতে পারবে না। কারণ আইনিভাবে তারাই মিহির মা বাবা।
মিহিকে নিয়ে চিন্তিত মধুবণী
এরপর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী মধুবণী বিশ্রাম নিতে ঘরে যায়। এরপরই দেখা যায় যে ঋকের কাকা কাকিমা বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছে, আর সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের মেয়ে মিহিকে। মিহিকে নিয়ে যাচ্ছে দেখে ছুটে আসে মধুবণী। তাদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করে যাতে তারা মিহিকে মধুবণীর থেকে আলাদা না করে দেয়। কিন্তু আইনের নিয়ম এবং টাকা দেখিয়ে তারা মিহিকে নিয়ে চলে যায় সেখান থেকে।
আরও পড়ুনঃ রাইকে ফেরাতে অসফল অনির্বাণ! মদ খেয়ে নেশায় ঘোরে ভ’য়ংকর ঘটনা ঘটালো সে!
এই দৃশ্য দেখার পরই ঘুম থেকে চিৎকার করে ওঠে মধুবণী। আসলে মিহিকে হারানোর ভয় থেকে সে দুঃস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। ঘুম থেকে উঠেই মধুবণী যখন মিহিকে খুঁজতে খুঁজতে বসার ঘরে এসে পৌঁছায় তখন দেখতে পায় মিহির সাথে খেলা করছে ঋকের রাঙা কাকিমা। এই দেখে আবারো ভয় হতে শুরু করে মধুবণীর। এবারে দেখার অপেক্ষা মিহির আসল পরিচয় কি কোনদিনও সবার প্রকাশ্যে আসবে? নাকি মধুবণী এই সত্যি আড়াল করতে পারবে।

