স্বয়ং উত্তমকুমারের গলায় শশ্মানের মালা! মহানায়কের জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা কিছু মজার ঘটনা!

পঞ্চাশের দশক। টালিগঞ্জে চলছে ‘হারানো সুর’ ছবির শুটিং। গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয় করবেন হিট জুটি উত্তম সুচিত্রা। সেইখানেই ঘটে মজার এক কাণ্ড!
টালিগঞ্জের নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওতে শুটিং চলছে ‘হারানো সুর’ ছবির। সেই ছবির ‘তুমি যে আমার’ গানে অভিনয় করবেন উত্তম সুচিত্রা। তখনই বাধল কেলেংকারি। পরিচালক অজয় কর কি কি শট নেবেন ভেবে রেখেছিলেন আগে থেকেই। সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখতে গিয়ে দেখেন ফুলের মালা আছে একখানি অথচ তিনি উত্তম সুচিত্রা দুজনের গলাতেই মালা দিয়ে দৃশ্য সাজিয়েছিলেন।
ততক্ষনে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। সেসময় টালিগঞ্জের অবস্থা কি ছিল তা এখন কল্পনার বাইরে। বড়বড় গাছ পালায় ঘেরা, সন্ধ্যার পর থেকেই রাস্তায় লোকজন পাওয়া দুষ্কর। বাসও চলত একটাই । আশেপাশে ফুলের মালার দোকান পাওয়া অসম্ভব। পরিচালকের মাথায় হাত। তিনি সেটের কোন এক ছোকড়াকে দ্বায়িত্ব দিলেন মালা নিয়ে আসার।
সেই ছোকড়া নিজের কর্তব্য পালন করলো। মালা এসে হাজির হল সেটে। সুন্দর পরিবেশে উত্তম সুচিত্রা মালা পড়ে তুমি যে আমার গানে অভিনয় করলেন। মনের মতো শট পেয়েও গেলেন পরিচালক। সেদিনের মত শুটিং শেষ হয়ে গেল কিন্তু উত্তমকুমার জানতেও পারলেন না তাঁর গলার মালা এসেছিল কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে। পরিচালক নিজের ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছিলেন তিনি কোনদিন উত্তমকুমারকে ঘটনাটি জানাতে পারেননি। সেই জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। শুটিং ভেস্তে যাওয়ার ভয়ের কাছে তিনি নিরুপায় হয়ে পড়েছিলেন।
আরও পড়ুন: মা’রণ রোগে আক্রান্ত রাই! অপারেশন পর কি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে সে?
ভাবতেও অবাক লাগে বাঙালির এক এবং অদ্বিতীয় ম্যাটিনি আইডল, বাঙালির আবেগের মহানায়ককে শশ্মানের মালা পড়ে অভিনয় করতে হয়েছিল। তবে জানলেও কি তিনি আদৌ আপত্তি করতেন? মনে হয় না! তাঁর কাছে অভিনয় ছিল আবেগ, কাজ ছিল তাঁর প্যাশন। কাজের প্রতি ডেডিকেটেড ছিলেন বলেই তো তিনি আজও বাঙালির ‘অমর’ মহানায়ক।

