খালি “মেনে নাও আর মানিয়ে নাও!” বাস্তব মায়েরাও এভাবেই মেয়েদের সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেয়! বাস্তব চিত্র ফুটে উঠল মিঠিঝোরায়

মেয়েদের জীবন বড্ড জটিল। বাপের বাড়ি হোক বা শ্বশুর বাড়ি, আপোষ করেই চলতে হবে মেয়েদের। সহ্য করতে হবে সমস্ত জ্বালা যন্ত্রণা। কিন্তু প্রত্যুত্তর! সেটা দেওয়া যাবে না। এমন ধারণা নিয়ে বড় হয়ে এই সমাজের মেয়েরা। যা কিছুই ঘটুক না কেন দোষের ভাগীদার কেবল এই নারী সমাজ। মাঝে মাঝে ভাবলেও অদ্ভুত লাগে তাই না?
প্রত্যেক মেয়েকেই ছোট্টবেলা থেকে তার মায়েরাই শেখায় মানিয়ে চলো, এই সমাজে মেয়েদের কেবল মানিয়েই চলতে হয়। না এই সমাজে আজও নারী পুরুষ সমান নয়। কেউ তোমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে? মানিয়ে নাও, কেউ তোমায় বিনা দোষী শাস্তি দিয়েছে? মানিয়ে নাও। কেউ তোমার শ্লী’লতাহানি করছে? চুপ থাকো, মানিয়ে নাও। শুরু নিজের বাড়িতেই নয় এই একই কথা প্রত্যেক মেয়েরাই শিখিয়ে থাকেন মেয়েদের। যার পরিবর্তন হয়না বিয়ের পরও।

কি দেখা গেছে মিঠিঝোরার আজকের পর্বে?
শ্বশুরবাড়িতে শাশুড়ি অ’ত্যাচার করছেন? মানিয়ে নাও। স্বামী গায়ে হাত তুলেছে, মানিয়ে নাও। প্রতিদিন তোমার সঙ্গে প’শুর মত আচরণ করছেন সকলে? ওটা তো তোমারই শ্বশুরবাড়ি, মানিয়ে নাও। কিন্তু কেন বলুন তো? সবসময় মেয়েরাও মানিয়ে নেবে এইভাবে? মিঠিঝোরার আজকের পর্বেই দেখা গেছে অপরেশনের আগের রাতটা নিজের পরিবারের সঙ্গেই কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাই। তাই ডাক্তারকে অনেক অনুরোধ করে একটা রাত বাড়িতে থাকার অনুমতি নেয় সে।
তবে রাতে সকলের সঙ্গে খেতে বসার পরই অনির্বাণের প্রসঙ্গ তুলে আনেন রাইয়ের মা। মেয়েকে বুঝতে বলেন অনির্বাণের সঙ্গে কোন সমস্যা হলে মানিয়ে নিতে বা শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কোন সমস্যা হলে মানিয়ে নিতে। কারণ এখন সেটাই রাইয়ের বাড়ি, সেটাই রাইয়ের সংসার। মাকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করে স্রোত। কিন্তু নিজের চিন্তাধারা থেকে অনড় নন্দিতা। উল্টে সমস্ত কিছুর দায়ভার রাইয়ের ঘাড়েই চাপাতে শুরু করেন তিনি। এত সব কিছু হওয়ার পরও দোষ কেবল মেয়ের।
অনির্বাণের মতো মানুষের সঙ্গে কি আদৌ থাকা সম্ভব? বারবার যে মানুষটা রাইকে অপমান করে, অবিশ্বাস করে দূরে ঠেলে দিয়েছে তার সঙ্গে কি সারাটা জীবন পথ চলা সম্ভব? কিন্তু তাও ‘তুমি মেয়ে তোমাকে মানিয়ে নিতে হবে’ এই কথাটাই শুনতে হয় সকলকে। আজকে যে ঘটনাটি রাইয়ের সঙ্গে ঘটছে এই সমাজে কত মেয়ের সঙ্গেই তো ঘটে এই ঘটনাগুলো। কিন্তু প্রত্যেকবারই এই একই কথা শুনতে হয় মেয়েদের। যতক্ষণ তার নিশ্বাস চলছে যত অ’পমান, লা’ঞ্ছনা সহ্য করেও মেয়েটিকে থাকতে হবে তার শ্বশুরবাড়িতেই। রাইয়ের এরকম পরিস্থিতিতেও তাকে এমনটাই বলছেন নন্দিতা।
আরও পড়ুন: রাইয়ের বিপদের দিনে মায়ের দায়িত্ব পালন করল বউমণি! দুটো বিজ্ঞ মার্কা উপদেশ দিয়ে দায় সারলো নন্দিতা!
যদিও সমাজের সমস্ত মায়েরা যদিও এরকম হয়না। কিন্তু নন্দিতার মতো মায়েরাও তো এই সমাজে আছে। যারা মেয়েদের কেবল মানিয়ে নিতেই বলেন। প্রতি’বাদ নয়, সহ্য করে যাও। কথায় বলে, মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু। এই কথাটা যেন এক্ষেত্রে মিলে যায় অক্ষরে অক্ষরে। আপনাদের কি মতামত? এখনও কি সময় আসেনি মেয়েদের রুখে দাঁড়ানোর? মানিয়ে নিয়ে নয়, মান সম্মান বজায় রেখে সংসার করো, চেষ্টা কর কিন্তু নিজেকে বিকিয়ে দিয়ে নয়। এমনটাই সমাজের ছবি হওয়ার উচিত না? আপনাদের কি মতামত?


