রাইয়ের বিপদের দিনে মায়ের দায়িত্ব পালন করল বউমণি! দুটো বিজ্ঞ মার্কা উপদেশ দিয়ে দায় সারলো নন্দিতা!

মা হল এমন একটা মানুষ যে সবার আগে নিজের সন্তানের ভালোটা বোঝে। সমস্ত বিপদের প্রত্যেকে সবার প্রথমে নিজের মাকেই পাশে পেতে চায়। কিন্তু সবার কপালে সেই সুখ জোটে না। কারোর কপালে মা থাকে না আর কারোর কপালে মা থেকেও মা থাকার সুখ থাকে না। জি বাংলার (Zee Bangla) মিঠিঝোরা (MithiJhora) ধারাবাহিকের নায়িকা রাই ঠিক সেই রকমই একজন অভাগী মেয়ে। তার মা থাকতেও মায়ের ভালোবাসা সেভাবে কোনদিনও পায়নি সে। বিশেষ করে জীবনের সবথেকে কষ্টকর দিনগুলোতেই তার মা তাকে একা করে দিয়েছে।
কথায় আছে একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেলে আরেকটা দরজা ঠিক খুলে যায়। রাইয়ের জীবনেও তেমনি মায়ের পরিপূরক হয়ে তার পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে মিষ্টি অর্থাৎ তার দাদার বউ। শুরু থেকেই সবাই রাইয়ের বিপক্ষে চলে গেলেও মিষ্টি কখনো রাইকে ভুল বোঝেনি। উল্টে নিজের ননদের হয়ে সবার সঙ্গে লড়াই করে গিয়েছে। ফলস্বরূপ এই চরিত্রটি বর্তমানে দর্শকদের অত্যন্ত প্রিয় একটি চরিত্র হয়ে উঠেছে। ননদ বৌদির সম্পর্ক নিয়ে বাংলা ধারাবাহিক গুলি যে ভয়ংকর ধারণা দর্শকদের মাথায় গেঁথে দিয়েছে, সেটা অনেকটাই প্রশমিত হচ্ছে মিষ্টিকে দেখে।

ধারাবাহিকের বর্তমান প্লট অনুযায়ী, রাই বর্তমানে মা’রণ রোগে আক্রান্ত। কিছুদিন ধরেই তার শরীর ভালো যাচ্ছিল না। কিন্তু সংসারের কথা ভাবতে গিয়ে নিজের প্রতি চরম অবিচার চালিয়েছে ধারাবাহিকের নায়িকা। তার এই অসুস্থতায় তার পাশে থাকেনি স্বামী অনির্বাণ। ঠিক এমন সময় রাইয়ের দুটো হাত শক্ত করে ধরেছে তার বৌদি এবং তার ছোট বোন। দুজন মিলে বর্তমানে রাইকে সুস্থ করে তোলার লড়াইয়ে নেমেছে। যে যেভাবে পারছে সেভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছে ধারাবাহিকের নায়িকাকে।
রাইয়ের জীবনে মায়ের কর্তব্য পালন করল মিষ্টি
যেখানে প্রত্যেকে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত, সেখানে মিষ্টি অর্থাৎ রাইয়ের বউমণি নিজের মেয়ের কথা একবারও না ভেবে নিজের একমাত্র সম্বল সোনার গয়না গুলো বন্ধক দিয়ে সেই টাকা রাই আর স্রোতের হাতে তুলে দেয় রাইয়ের চিকিৎসার জন্য। সেই টাকা নিতে রাই অস্বীকার করলে মিষ্টি বলে, চরকিকে দেখার জন্য তার দুই পিসিমণি আছে। তারা কখনো ওর ভার মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলবে না। মিষ্টি আরো বলে, তার কাছে রাই, স্রোত এবং চরকি সবাই সমান। তাই দরকারটা যারই হোক না কেন সেই দরকার মেটানোর দায়িত্ব তার।
আরও পড়ুন: “এবার পুজোয় চাঁদা দেব না, অশৌচ!” তিলোত্তমার প্রতিবাদে পুজো বয়কট করলেন শ্রুতি দাস
যত দিন যাচ্ছে এই চরিত্রটি দর্শক মহলের কাছে আরো বেশি মায়াভরা এবং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সত্যিই একটা মানুষ কতটা ভালবাসতে পারলে নিজের সর্বস্ব এক নিমেষে দান করে দিতে পারে। সে অর্থাৎ মিষ্টি খুব ভালো করেই জানে যে ব্যাধি রাইয়ের শরীরে ভাষা বেড়েছে সেখান থেকে রাই মুক্তি নাও পেতে পারে। তারপরেও নিজের মনের সমস্ত আশা ভরসা একত্রিত করে শেষ অব্দি লড়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে বউমণি।

