ইন্ডাস্ট্রিকে যৌ’নপল্লী বানিয়ে তুলছে কিছু মুখোশধারী পরিচালক! মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিচারের আর্জি জানালেন ঋতাভরী

বাংলা বিনোদন জগতের একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)। মডেলিং থেকে শুরু করে ছোট পর্দা, বড় পর্দা এবং ওটিটি মাধ্যম সবেতেই তার অবাধ বিচরণ। নিজের এতগুলো বছরের কর্মজীবনে তিনি এমন অনেক কিছু দেখেছেন শুনেছেন এবং বুঝেছেন যার সারমর্ম খুব একটা সুখকর নয়। এইবার এই উ’ত্তপ্ত পরিবেশে ইন্ডাস্ট্রির কিছু কুৎসিত মানুষদের চরম সমালোচনায় মুখর হলেন অভিনেত্রী।

এই মুহূর্তে সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে একটি ঘটনা। হয়তো এটাই এই বছরের এখনো অব্দি হওয়ার সবথেকে বড় জঘন্য অপরাধ। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ঘটনা নিয়ে পাগল হয়ে রয়েছে গোটা দেশবাসী। এদিকে হেমা কমিটির রিপোর্টকে কেন্দ্র করে একেবারে তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে মালয়ালম সিনেমা জগৎ। ঠিক এইরকম এক উত্ত’প্ত পরিস্থিতিতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে হওয়া যৌ’ন হেনস্তা নিয়ে বিস্ফোরক ঋতাভরী চক্রবর্তী (Ritabhari Chakraborty)। টলিউডকে ‘সুগার কোটেড ব্র’থেল’ বলতো বাদ রাখলেন না তিনি।

Bengali actor

গত সোমবার সমাজ মাধ্যমের পাতায় একটি বিস্তারিত বিবৃতি তুলে ধরেন অভিনেত্রী। এতদিন ধরে মনের মধ্যে জমে থাকা সমস্ত ক্ষো’ভ ওই বিবৃতিতে উগরে দেন ঋতাভরী। তাতে অভিনেত্রী লেখেন, “হেমা কমিশনের রিপোর্ট মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতের যৌন হেনস্তার ঘটনাগুলোর পর্দা ফাঁস করে দিয়েছে। এই ঘটনা আমাকে ভাবতে বাধ্য করেছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কোনও পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয় না?”

এখানেই শেষ নয়, এরপর অভিনেত্রী লেখেন, “একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। আমার সঙ্গে আমার চেনা পরিচিতর সঙ্গেও এমনটা হয়েছে। নোংরা মন ও ব্যবহার নিয়ে নায়ক/প্রযোজক/পরিচালক দিনের পর দিন কাজ করে চলেছে। কোনও সমস্যাও হচ্ছে না। আবার আর জি করের নির্যাতিতার বিচার চেয়ে তাঁদের মোমবাতি হাতেও দেখা যাচ্ছে।”

আরও পড়ুন: শুরু হলো রাইয়ের জীবন সংগ্রাম! মৃ’ত্যুকে হারিয়ে আর একটা নতুন জীবন আদৌ পাবে তো রাই?

কোনরকম লুকোচুরি না করেই একেবারে সরাসরি নিজের পোস্টের শেষের দিকে মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যাগ করেন ঋতাভরী। সেখানে তিনি লেখেন, “এই সমস্ত নোংরা মানসিকতার মানুষদের মুখোশ টেনে খুলুন। আমি আমার সহ-অভিনেত্রীদের কাছে আবেদন করছি, এই শয়তানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। জানি আপনারা হয়তো ভালো চরিত্র হারানোর বা ইন্ডাস্ট্রিতে কোনওদিন কাজ না পাওয়ার ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু আর কতদিন আমাদের চুপ থাকা উচিত? যে সমস্ত তরুণ অভিনেত্রীরা চোখে স্বপ্ন নিয়ে এই কাজে আসেন তাঁদের প্রতি কি আমাদের কোনও দায়িত্ব নেই। এই জায়গাটাকে কি তাঁরা সুগার কোটেড ব্রথেল (যৌনপল্লি) ভাববে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (দিদি) আমরা এই ধরনের (হেমা কমিটির মতো) তদন্ত চাই, অভিযোগ আর পরিবর্তনের জন্য।”

Back to top button