নকল শাড়ি বিক্রি করে কেয়া শেঠ! বিরাট অভিযোগ আনলেন ঋতাভরীর মা! পাল্টা জবাব দিয়ে তাকে ধুয়ে দিলেন কেয়া শেঠ

এই মুহূর্তে গোটা দেশের পরিস্থিতি বেসামাল। রাজ্য জুড়ে চলছে বি’ক্ষোভ। আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে চলছে মিছিল মিটিং। অন্যদিকে দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়ার দুর্গাৎসব (Durga Puja)। গণ বি’ক্ষোভের জেরে অনেকেই সে কথা বলতে বসেছেন। তবে অনেক মানুষ রয়েছেন যারা শুরু করে দিয়েছেন পুজোর কেনাকাটা (Shopping)। আর তার সঙ্গে রয়েছে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা।

বিখ্যাত পরিচালক শতরূপা স্যান্যালও এইসবের মধ্যেই পূজোর কেনাকাটা সেরে ফেলেছেন বলেই জানিয়েছেন সমাজ মাধ্যমের পাতায়। তাঁর দুই মেয়েও এই অভিনয় জগতের দুই রত্ন। খ্যাতনামী অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী ও চিত্রাঙ্গদা এনারাও পুজোর কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছেন। এই বছর কেয়া শেঠ এক্সক্লুসিভ অর্থাৎ কেয়া শেঠের পোশাক বিপণির ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা করেছিলেন। আর এই কেনাকাটা করতে গিয়েই ঘটে যায় মহা বিপত্তি। সেখানে একটা শাড়ি কিনতে গিয়ে নাকি ডাহা ঠকে গিয়েছেন ঋতাভরীর মা! এমনই অভিযোগ পরিচালিকার। তারপর যা হয় আর কি। সঙ্গে সঙ্গে সমাজমাধ্যমে একটি বড় পোস্টের মাধ্যমে অনুরাগীদের সর্তকতার বার্তা দিলেন শতরূপা। সঙ্গ দিলেন তাঁর বড় মেয়ে চিত্রঙ্গদা।

গোটা বিষয়টা জানার পরে একেবারেই চুপচাপ বসে থাকেননি কেয়া। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তিনি চিত্রাঙ্গদাকে উপদেশ দিলেন নিজের মাকে সামলে রাখার! শুধু তাই নয়, তিনি বিস্তারিতভাবে দর্শকদের জানান আসল ঘটনাটা ঠিক কি হয়েছিল। শুধু যে মুখের কথায় চিড়ে ভিজবে না এটা তিনিও খুব ভালো করেই জানতেন তাই কমেন্টে রেখে দেন প্রমাণ স্বরূপ সেই শাড়িটির বিবরণী। ঘটনাটার সূত্রপাত্র হয়েছিল একটি বোমকাই শাড়ি কেনা নিয়ে।

শতরূপা সান্যাল একটি শাড়ি কিনেছিলেন কেয়া শেঠ এক্সক্লুসিভ থেকে। অনলাইনে কেয়ার পোশাক বিপণি থেকে প্রায় ৪,৮৯৯ টাকা দিয়ে তিনি শাড়িটি ক্রয় করেছিলেন। শাড়িটি বাড়িতে আসার পর এবং সেটা খুলে দেখার পরে শতরূপার মনে হয়, যা দাম নিয়েছে ততটা দামি শাড়ি নয়। শুধুমাত্র তাই নয় পাশাপাশি শাড়িটি নাকি নকল এমনটাও দাবি করেন তিনি। অতএব তিনি শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তিনি শাড়িটি কেনার সময় ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশেষ অবগত ছিলেন না। তাই শাড়িটি ফেরত করা যায় না। শতরূপার দাবি, তিনি বার বার অনুরোধ জানান শাড়িটি ফেরত দেওয়ার। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি।

এর পড়ার সময় নষ্ট না করে তিনি অর্থাৎ শতরূপা সমাজ মাধ্যমের পাতায় লেখেন, ‘‘এমনিতে আমি সারা বছরই যথেষ্ট অনলাইন কেনাকাটা করি। আজকাল যে ভাবে মেয়েরা শাড়ি জামা বা পোশাক গয়না ইত্যাদির অনলাইন ব্যবসা করছেন, আমি শুধু তারিফই করি না, কিনিও। তাঁদের প্রতি আমি খুবই আন্তরিক। দু’-এক বার যে ঠকিনি, তা নয়। খুব অল্প টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা ধর্তব্য নয়। এখন তাই যাঁদের চিনে গেছি, তাঁদের থেকেই কিনি। কিছু নামীদামি কোম্পানির জিনিসও কিনেছি যথেষ্ট। পছন্দ না হলে ফেরতও দিয়েছি। কারও ক্ষেত্রেই কোন অসুবিধা হয়নি। তাঁরা সুনাম রেখেছেন এখন অবধি! তাঁদের ব্যবহারও ভদ্রলোকের মত। অসুবিধে হল ‘কেয়া শেঠ এক্সক্লুসিভ’ নামক বিক্রেতার সঙ্গে। সিল্ক বোমকাই বলে একটি নকল শাড়ি চালিয়ে দিলেন তাঁরা, ছাড় দিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা দামে। এটার দাম হয়তো ১০০০/- টাকাও হবে না। সুতরাং, কাস্টমার কেয়ারে তৎক্ষণাৎ জানালাম, এটা নকল, ফেরত দিতে চাই। তারা মেলে ও ফোনে জানাল- ‘ফেরত হয় না! বদলও হয় না!!’ নীতি তাদের এ রকমই। লোক ঠকানোর কী নির্লজ্জ ধান্দা! আমার পুরো টাকাটাই জলে!”

সবটা বিস্তারিত জানালেন কেয়া শেঠ

এর ফলে কেয়া শেঠের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুন্ন হয়। যারা সেখান থেকে কোনদিনও কেনাকাটা করেননি তাদের মধ্যেও একটা খারাপ প্রভাব পড়ে। এরপর নিজের মায়ের এই পোস্টের মন্তব্যবাক্সে এই সংস্থাকে ট্যাগ করে জবাব চান অভিনেত্রী চিত্রাঙ্গদা। এটা জানার পর একেবারেই মেনে নিতে পারেননি কেয়া শেঠ। পাল্টা উত্তর আসে কেয়ার তরফে। তিনি নিজের একটি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে গোটা বিষয়টা বিস্তারিতভাবে বলেন এবং এটাও জানান যে শাড়ি শতরূপা কিনেছেন, তার বিবরণী বাক্সে লেখাই ছিল, এটা আসল সিল্ক নয়। শাড়িটি পছন্দ করে অর্ডার দেওয়ার সময় এটা দেখা উচিত ছিল। সমস্ত কিছু বিস্তারিত ভাবে না জেনে তিনি যখন শাড়িটি কিনেছেন তখন সেখানে প্রতিষ্ঠানের কিছু করার থাকে না। এটা সম্পূর্ণভাবে তাঁরই ভুল। শাড়ি ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গে কেয়া বলেন, “আমাদের শাড়ি ফেরত দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। যদি না শাড়িটা ছেঁড়াফাটা বেরোয়।”

আরও পড়ুন: প্রতিবাদ করাই কি হল কাল? নিমকি ঠামের কান্ড দেখে চমকে উঠল মিহি!

কেয়া বলেন, ‘‘সমাজে এ রকম শতরূপা সান্যাল অনেকে রয়েছেন, যাঁরা ছোট ঘটনাকে বড় করে ব্যাখ্যা করেন। নিজের ভুল অন্যদের উপর চাপিয়ে দেন।” কেয়া কথাবার্তার শুরুতেই দর্শকদের জানান, বহু বছর আগে তাঁর কাছে শতরূপা এসেছিলেন ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে, গল্প শোনাতে। শতরূপা চেয়েছিলেন তাঁর ছবির প্রযোজক হিসেবে যেন কেয়া শেঠকে তিনি তার পাশে পান। তাই তাঁর ফোন নম্বর শতরূপার কাছে রয়েছে। তা-ও তাঁকে সরাসরি ফোন না করে, এ ভাবে খোলাখুলি ভাবে সমাজ মাধ্যমের পাতায় এমন বিশ্রী অনাহ্যকর অযৌক্তিক ‘কুৎসা’ করে তাঁর সংস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেয়েছেন।

Back to top button