“ইন্ডাস্ট্রিতে এখন হাতে গোনা ‘সেলিব্রেটি’ বাকিদের গ্রাম বাংলার মানুষ চেনেনও না!” স্পষ্ট আলোচনায় কৌশিক-লাবনী

টলিউডের অসামান্য অভিনয়শিল্পী, জনপ্রিয় জুটি কৌশিক ব্যানার্জি (Kaushik Banerjee) ও লাবনী সরকার (Laboni Sarkar)। দীর্ঘ বহু বছর সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মাটি আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন তাঁরা। ঝুলি ভর্তি অভিজ্ঞতা, নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ওনারা স্বতন্ত্র এবং স্পষ্টবাদী। সাম্প্রতিক সাক্ষাতকারে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন কৌশিক-লাবনী। বহু বছর টলিউডে আছেন, তবে বর্তমানে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে রাজনীতির যোগসাজশ বিষময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, মনে করছেন তাঁরা।
বিভিন্ন বিষয়ে প্রেক্ষিতে আলোচনার মাঝে তাঁরা বললেন, বর্তমানে বাংলা ছবির পরিস্থিতি কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে। ৭ দিন, ১৫ দিন, ২৫ দিনে, কিনা বাংলা ছবির সাকসেস পার্টি হচ্ছে।অভিনেতার মত এই ছবিগুলো আদতে সাকসেসফুল নয়ই! হাতে স্মার্ট ফোন খুললেই দেখতে পাওয়া যাবে ঠিক কতগুলো টিকিট বিক্রি করেছে সেই সিনেমাটি। তাই এই সাকসেস পার্টিগুলি, রিলিজের আগে ছবির কেক কাটা সবটাই বড্ড মেকি, মনের সান্ত্বনা। আসলে এসবের সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই।
কথায় বলে অভিনয়শিল্পী মানেই সবাই সেলিব্রেটি! কিন্তু আদতেই কি তাই? বর্ষীয়ান অভিনেতার মতে সেলিব্রেটি কথার অর্থ যাকে দিয়ে সিনেমা সেল করানো যাবে। বর্তমান ইন্ডাস্ট্রিতে প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা-সহ হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া আর কাউকেই সেলিব্রেটি মানতে রাজি নন তিনি। তিনি মনে করেন তিনি নিজেও সিনেমা করে রোজগার করা মানুষ। কোন সেলিব্রেটি নন। একই মত তাঁর অর্ধাঙ্গিনী লাবনী সরকারেরও।
বর্তমানে বাংলায় অনেক কম বাজেটের ছবি হচ্ছে। তিরিশ দিনের জায়গায় দশ দিনে শুটিং হয়। কমে যাচ্ছে বাজেট। লাভের চাইতে লোকসান হচ্ছে বিস্তর। বাংলা হয়তো বাঙালীদের গল্প বলতেই ভুলেছে। গ্রাম বাংলার মানুষ আগের মতো আর সিনেমা দেখতে যান না। ওটিটি প্লাটফর্মের কল্যাণে বাড়িতে বসেই স্মার্ট ফোনে দেখে নেওয়া যায় নানা বিধ ছবি। যদিও তার মধ্যে কটা ছবি মনের কোণে আঁচড় কাটে? কথা প্রসঙ্গে উঠে আসে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে রাজনীতির যোগ। বর্ষীয়ান অভিনেতা কৌশিক বলেন, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি থেকে রাজনীতির ময়দানে নাম লেখানো ব্যক্তিদের তিনি রাজনৈতিক নেতা বলে মনেই করেন না।
এমন অনেকেই আছেন যারা হয়তো সকালের পেপারটুকু পড়েন না, অথচ আজ নেতা হয়েছেন। নাম না করেই বিঁধলেন অভিনেতা কৌশিক। সর্বোপরি লাবনী সরকারের মতে, কোনোভাবেই সৃজনশীলতা এবং রাজনীতি পাশাপাশি বসতে পারে না। বর্তমান ইন্ডাস্ট্রিতে মানুষ আসছে নিজস্ব উদ্দেশ্য সফল করতে, তারপর মুনাফা অর্জন করে বেরিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে, বাংলার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি হয়ে পড়ছে রুক্ষ, শুষ্ক মানবিকতাহীন!পরিস্থিতির প্রতিকার কবে? আশায় রয়েছেন অভিনয়শিল্পীরা।

