এবার বীথির মুখের ওপর জবাব দিয়েছে নির্ঝরের বাবা! দিনে দিনে দর্শকের কাছে ভিলেনে পরিণত হচ্ছে বীথি

স্টার জলসায় কিছুদিন আগে শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘মেয়েবেলা’। যেটি শুরুর প্রথম থেকেই অর্থাৎ প্রথম প্রোমো সামনে আসার পর থেকেই দর্শকমহলে বেশ হইচই পড়ে গিয়েছিল। তার দুটি কারণ ছিল একটি হল বর্ষিয়ান অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলীকে বহু বছর পরে আবার একবার ছোটপর্দায় দেখতে পাওয়া গিয়েছিল এবং অন্যটি হলো এক অন্য ধারার গল্প নিয়ে এসেছিল এই ধারাবাহিকটি। তবে শুরুর পর থেকে মেয়েবেলা টিআরপি তালিকায় সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারিনি। কিন্তু যতদিন এগোচ্ছে ততই আসতে আসতে টিআরপি তালিকাতেও ফল ভালো হচ্ছে এই ধারাবাহিকের। বর্তমানে নায়ক নির্ঝর এবং নায়িকা মৌ এর বিয়ের ট্র্যাক চলছে।
প্রসঙ্গত গল্পে দেখানো হয়েছে নায়ক নির্ঝরের মা বীথি একেবারেই পছন্দ করে না নায়িকা মৌকে। কিন্তু ঘটনাচক্রে নায়ককে নিজের ১২ বছরের প্রেমিকা, চাঁদনীকে ছেড়ে সেই মৌকেই বিয়ে করতে হচ্ছে। যেটা তার মা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। নায়কের বাড়ির প্রত্যেকে মৌকে পছন্দ করলেও বীথি তার প্রিয় বন্ধুর মেয়ে মৌকে পছন্দ করেনা। তার কারণ অতীতে তার দাদার সঙ্গে তার বন্ধুর বিয়ে ঠিক হয়েছিল কিন্তু বিয়ের কদিন আগেই তার বন্ধু পালিয়ে যায় এবং অন্য একজনকে বিয়ে করে। অতীতের পুরনো ঘা থেকেই সে তার বন্ধুর মেয়েকে একেবারেই পছন্দ করে না। বীথি এখনো চায় যাতে চাঁদনীর সঙ্গেই নির্ঝরের বিয়ে হোক।
সম্প্রতি পর্বে দেখা গেছে চাঁদনী তার নিজের সব গয়না মৌকে, নির্ঝর এবং মৌ এর বিয়ের দিন দিতে এসেছে। সে তার গয়না গুলো মৌকে দিয়ে বলেছে নিজে হাতে সাজিয়ে দেবে। কিন্তু মৌসেই গয়নাগুলো নিতে রাজি হয়নি। এটার কারণ মৌ বলেছে যেটা তার নয় সে সেটা নিতেই পারবে না। পরে যখন চাঁদনী বলেছে মৌ যদি না নেয় তাহলে ফেলে দিতে। তখন মৌ গিয়ে বীথিকে সেই গয়না গুলো দিয়ে আসে। উল্টোদিকে চাঁদনী যখন চলে যাচ্ছিল বীথি নির্ঝরকে নিজের মাথার দিব্যি দেয় এবং বলে চাঁদনীকে বাড়ি ছেড়ে আসতে। এরপর কিছুটা বাধ্য হয়েই নির্ঝরকে তাকে বাড়ি ছাড়তে দিতে যেতে হয়। এবং রাস্তায় নির্ঝর চাঁদনীকে একটু কড়া ভাষায় কেন সে বিয়ের দিন তার বাড়িতে এসেছে বললে সে কষ্ট পায় এবং অজ্ঞান হয়ে যায়।
গতকালের পর্বে দেখা গেছে নির্ঝর ফিরছে না দেখে বাড়ির সকলেই টেনশনে পড়ে গেছে। একদিকে বিয়ের লগ্ন পেরিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যদিকে নিমন্ত্রিতরা অনেক রকম কথা বলছে। মৌ সেজেগুজে বিয়ের প্যান্ডেলের মধ্যে বসে রয়েছে। আর উল্টো দিকে নির্ঝরকে বাড়ির সকলে ফোন করেও পাচ্ছে না। কিন্তু এদিকে দেখা গেছে নির্ঝর চাঁদনীকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে এবং শেষে চাঁদনীর জ্ঞান ফেরে তারপরে তাকে বাড়ি দিয়ে আসতে যায়। কিন্তু বাড়িতে সকলেই ভাবতে শুরু করে দেয় যে নির্ঝর আর বিয়ের মন্ডপে ফিরবে না। যার জন্য পাপাই রেগে যায়।
শেষে দেখা যায় নির্ঝরের বাবা বীথিকে এসে দোষারোপ করে তাকে বলে তুমি তোমার ছেলের ভালো চাও না। বিয়ের মন্ডপে তোমার ছেলেকে নিয়ে সকলে আজেবাজে কথা বলছে। তুমি তোমার ছেলেকেও ভালোবাসো না, তুমি শুধু নিজেকে ভালোবাসো আর নিজের ইগো পূরণ করতে জানো। উল্টোদিকে পাপাই ও লোকজনের কথা শুনে অত্যাধিক রেগে যায় এবং সে মৌয়ের হাত ধরে মন্ডপ থেকে নিয়ে চলে যেতে চায়। সে বলে তোকে এই বাড়িতে বিয়ে করতে হবে না, আমি তোকে সারা জীবন নিজে দেখব।
পাপাইয়ের এই চরিত্রটি প্রথম থেকেই দর্শকের অত্যন্ত পছন্দ হয়েছে। তার কারণ নিজের দাদা না হয়েও সে তার মাসতুতো বোনকে এত সুন্দর আগলে রাখছে যেটা সব সময় সুন্দর। আর উল্টোদিকে আজকের নির্ঝরের বাবার বলা কথাগুলো দর্শকরা খুবই ভালো ভাবে নিয়েছে। কারণ এতদিন সকলে ভাবছিল বীথি কষ্টে রয়েছে কিন্তু সে নিজের জেদ পূরণ করার জন্য মৌকে রীতিমতো কষ্ট দিচ্ছে। আর যে মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই দুঃখ কষ্টের মধ্যেই বড় হয়েছে।তার এগুলো পাওনা নয় এমনটাই মনে করছে দর্শকরা। তাই গতকালের পর্বে নির্ঝরের বাবা এবং পাপাইয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দর্শকরা।

