শেষমেষ দোষী ভাই-ই সব! জগদ্ধাত্রীকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে স্বয়ম্ভু! অপরাধী ভাইকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা দেখে ক্ষুব্ধ দর্শক

বর্তমানে জি বাংলার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক হল ‘জগদ্ধাত্রী’। যেখানে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায় অভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিক এবং অভিনেতা সৌম্যদীপ মুখার্জিকে। এই ধারাবাহিকের গল্প একেবারে অন্যরকম। এখানে নায়ক নায়িকা দুজনেই স্পেশাল ফোর্স পুলিশ অফিসার। কিন্তু নায়কের থেকে নায়িকাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নায়িকা জগদ্ধাত্রী একাধারে যেমন পরিবারের সমস্যা সমাধান করে তেমনভাবেই অপরাধীদের শাস্তি দেয়। আর এখানে নায়ক স্বয়ম্ভুর সৎ ভাই হল উৎসব যে বেআইনি কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত। এখন জগদ্ধাত্রী তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

কিছুদিন আগেই জগদ্ধাত্রীকে মারার জন্য উৎসব প্ল্যান কষে ছিল কিন্তু সেই চক্রান্তে সে সফল হয়নি। আর যখন উৎসব ধরা পড়ে যাবে তখনই তার বাবা রাজনাথ মুখার্জি তাকে মেরে ফেলার একটা মিথ্যে প্ল্যান করে, যাতে সকালে মনে করে যে সে মরে গেছে। কিন্তু জগদ্ধাত্রী সেটাও ফাঁস করে দেয় এবং সকলের সামনে এটা প্রমাণ হয়ে যায় যে উৎসব লুকিয়ে রয়েছে। আর যে ব্যক্তিটির লাশ তারা পেয়েছে সেটা উৎসব নয়। তারপরেই জগদ্ধাত্রী উৎসবকে অ্যারেস্ট করে। আর অ্যারেস্ট করার পর থেকেই উৎসবের মা বৈদেহী মুখার্জি কী করে ছেলেকে বাঁচাবে এই চেষ্টা করে যাচ্ছে!

এতদিন সে স্বয়ম্ভুকে কিছুতেই মেনে নিচ্ছিল না আর এখন সে স্বয়ম্ভুকে নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে, ছেলে বলেও মেনে নিচ্ছে। আর এই সব কিছু সে করছে শুধুমাত্র জগদ্ধাত্রীকে স্বয়ম্ভুর থেকে দূরে করতে। যাতে তার কথামতো স্বয়ম্ভু জগদ্ধাত্রীকে বাধ্য করতে পারে উৎসবকে ছেড়ে দিতে। আর এত কিছু স্বয়ম্ভু বুঝতে পারছে না, সে নিজেও জগদ্ধাত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যাতে সে উৎসবকে মুক্তি দেয়। উল্টোদিকে কৌশিকী মুখার্জী এই পুরো ব্যাপারটা বুঝতে পারছে আর জগদ্ধাত্রীকে এই বিষয়ে সাবধান করতে চায়।

যা শুনে জগদ্ধাত্রী নিজেই বলে যে সে পুরোটাই জানে। আর স্বয়ম্ভু তাকে সকলের মত ব্যবহার করেছে শুধুমাত্র নিজের বাবা-মায়ের কাছে আসার জন্য। আজ যখন স্বয়ম্ভুর জগদ্ধাত্রীর পাশে দাঁড়ানোর কথা সেখানে সে তাকে তার কাজ করতে বাধা দিচ্ছে।। স্বয়ম্ভু এখন বৈদেহী মুখার্জির কথায় জগদ্ধাত্রীকে ভুল বুঝছে এবং উৎসব একটা এত বড় ক্রিমিনাল জেনেও তাকে ধরতে বারণ করছে। যার জন্য দর্শকরা বেজায় চটেছে স্বয়ম্ভুর চরিত্রটির উপরে। এমনিতেও এর আগে স্বয়ম্ভুর চরিত্রটিকে কেউই পছন্দ করত না। তার কারণ নায়ক হিসাবে এই ধারাবাহিকে তার কোনো রকম ভূমিকাই দেখা যায়নি।

প্রথম থেকেই নায়িকাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি জায়গায় নায়িকা জগদ্ধাত্রী মারপিট করছে আর পাশে নায়ক স্বয়ম্ভু দাঁড়িয়ে রয়েছে এই দেখে রীতিমতো ট্রোল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। এমনিতেও ভক্তরা বারে বারে একই কথা বলে যে একটা নায়ক হিসাবে স্বয়ম্ভুর চরিত্রটির কোন গুরুত্বই নেই। আর সেই জায়গায় এখন যখন সবচেয়ে বেশি করে তার ভূমিকা দরকার ছিল সেখানে সে জগদ্ধাত্রীর জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। যেখানে জগদ্ধাত্রী কিছুদিন ধরে তাকে পছন্দ করতে শুরু করেছে তাদের সম্পর্কটাকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। সেখানে স্বয়ম্ভু বৈদেহী মুখার্জির কথায় ভুলে জগদ্ধাত্রীকেই ভুল বুঝছে।

সে নিজে একটা এত বড় পুলিশ অফিসার হয়ে কী করে একটা অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতে পারে! যেখানে সে প্রথম থেকে বলে এসেছে একজন বন্ধু হিসেবে সে সব সময় জগদ্ধাত্রীর পাশে দাঁড়াবে। আর যখন তার পরিবার আর জগদ্ধাত্রীর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হচ্ছে, আর যেখানে জগদ্ধাত্রী ঠিক, সেখানে সে তার পরিবারকে বেছে নিচ্ছে। তাই দেখে কিছুতেই পছন্দ করতে পারছে না দর্শক।

